Star Track
05/04/2026
সন্তানকে কিডনি দিতে চেয়েও পারছেন না এক মা। এ ঘটনায় প্রতিনিয়ত কাঁদছেন তিনি। ঘটনাটি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের আগুনিয়াপাড়া গ্রামের। ওই গ্রামের ভ্যানচালক রেজাউল ইসলামের বড় ছেলে মিঠু হোসেন (২১) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে মিঠুর। তাহলে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি।
ছেলেকে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন মা শাহনাজ বেগম। ছেলের রক্তসহ সব কিছুই মায়ের সঙ্গে মিলে গেছে। এখন শুধু কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন করতে যে খরচ সেই পরিমাণ টাকা নেই তাদের কাছে। পরিবারে বিক্রি করার মতোও কিছু নেই। নতুন করে ধারদেনা করার মতোও কোনো জায়গা নেই।
জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিঠু। পরে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, তার একটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে এবং অপর কিডনিটিও প্রায় ৮০ শতাংশ বিকল। বর্তমানে তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
মিঠুর মা জানান, সংসারের সবকিছু বিক্রি করে ইতোমধ্যে ঢাকার শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে মিঠু আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অপারেশন, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ ও ওষুধসহ মোট প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এতো টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি সমাজের সকলের কাছে আমার ছেলের জীবনের জন্য সাহায্য চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, মিঠুর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে মিঠুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।
একই গ্রামের শাহাজান বিশ্বাস বলেন, মিঠুর বাবা একজন ভ্যানচালক। চিকিৎসার জন্য তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত সহায়তা পেলে মিঠুর জীবন রক্ষা পেতে পারে।
এদিকে, মিঠুর পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। আরও বিস্তারিত জানতে মিঠুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে ০১৯৬০-২৬৯১২০ নম্বরে।
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতককে বিক্রির চাপ
নীলফামারীর ডোমারে মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতি নারীর সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পেরে নবজাতককে বিক্রি করার জন্য স্বজনদের ওপর চাপ দেওয়ার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়লা সাঈদ তন্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এতে থানা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা করেন।
ভুক্তভোগীর স্বজন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানার গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যায় স্বজনরা। পরে সেখানে সিজার শেষে তাকে গত রোববার রিলিজ দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসূতি ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ না দিয়ে নবজাতককে বিক্রি করে বিল পরিশোধ করার চাপ দেয়।
আরও জানা যায়, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও নবজাতককে রুমের মধ্যে আটকিয়ে রাখেন। পরে সেখানের চিকিৎসক ডা.ফারজানা আফরিন বিল পরিশোধের জন্য বাইরে থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে এসে নবজাতককে ২২ হাজার টাকায় বিক্রির চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগী ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে তারা এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Dhaka
1207