md Rakib chy
💖
🖤
31/03/2026
✅ একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ভেদ করে উঠে দাঁড়াল। (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্যতম প্রধান মুজেজা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন।)
হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
"দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"
লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"
হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"
লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।
এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, ‘হে আমার বান্দা! তুমি কি জানো না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?’
হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটি খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"
আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।
সূত্র: আয়াত যাহরুল ফাইয (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)
শুভ জন্ম বাংলাদেশ 🇧🇩
25/03/2026
সূরা নূর (সূরা আন-নূর) কুরআনের ২৪ নম্বর সূরা, এবং বিয়ে না হওয়া বা দেরিতে হওয়ার সমস্যার সাথে এর সম্পর্ক প্রধানত আয়াত ৩২ (২৪:৩২) থেকে আসে। এই আয়াতটি খুব জনপ্রিয় হয়েছে বিয়ের সমস্যার "সমাধান" হিসেবে।
✅ আয়াত ৩২-এর আরবি, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ
▪️ আরবি:
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ:
ওয়া আনকিহুল আয়ামা মিনকুম ওয়াস সালিহীনা মিন ইবাদিকুম ওয়া ইমাইকুম। ইয়াকুনু ফুকারা ইয়ুগনিহিমুল্লাহু মিন ফাদলিহি। ওয়াল্লাহু ওয়াসিউন আলীম।
▪️ বাংলা অর্থ (সহজ ভাষায়):
"তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (বিবাহহীন) তাদের বিয়ে সম্পন্ন করো, আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদেরও। তারা যদি গরিব হয়, তাহলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।"
✅ এই আয়াত কীভাবে বিয়ের সমস্যার সমাধান দেয়?
➡️ আল্লাহ এখানে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন:
▪️ অভিভাবক, পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীলদের উচিত অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের (যারা যোগ্য) বিয়ে দেওয়া।
▪️ সবচেয়ে বড় বাধা যা মানুষ ভাবে — "আর্থিক অভাব/গরিব বলে বিয়ে করা যাবে না" — আল্লাহ স্পষ্ট করে বলছেন: গরিব হলেও বিয়ে করো। বিয়ের পর আল্লাহ নিজে রিজিক বাড়িয়ে দেবেন, অভাব দূর করবেন।
▪️ এটা আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখার বড় শিক্ষা। অনেকেই দেখেছেন, বিয়ের পর রিজিকের দরজা খুলে যায়।
✅ সূরা নূর থেকে বিয়ের সমস্যায় আরও যা শিক্ষা পাওয়া যায়
▪️ আয়াত ৩০-৩১: পুরুষ-নারী উভয়কে চোখ নত রাখতে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করতে বলা হয়েছে। অবিবাহিত অবস্থায় হারাম সম্পর্ক/চিন্তার ঝুঁকি বেশি, তাই বিয়ে করে পবিত্র থাকার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
▪️ আয়াত ৩৩: যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে (রোজা রাখা, নফস নিয়ন্ত্রণ) যতক্ষণ না আল্লাহ রিজিক দেন।
▪️ আয়াত ৩: ব্যভিচারী/ব্যভিচারিণীকে মুমিনদের বিয়ে করা হারাম — অর্থাৎ চরিত্রের পবিত্রতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
✅ বিয়ের জন্য সূরা নূরের আমল/দোয়া (জনপ্রিয় প্রচলিত পদ্ধতি)
➡️ অনেকে এই আয়াতকে ওজিফা/আমল হিসেবে করে:
▪️ প্রতিদিন সূরা নূর পড়া (বিশেষ করে আয়াত ৩২)
▪️ আয়াত ৩২ নিয়মিত তিলাওয়াত করা (কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়া বলা হয় — এটা সুন্নাহ নয়, তবে দোয়ার নিয়তে করা যায়)
▪️ নামাজের পর দোয়া করা: "ইয়া আল্লাহ, আয়াত ৩২-এর হক দিয়ে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka