July24bd.com
02/01/2026
সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়াকে নিয়ে শেখ হাসিনার আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যসমূহ এবং সেসবের বিশ্লেষণঃ
সাজগোজ, মেকআপ ও ভ্রু আঁকা নিয়ে কটাক্ষঃ
১.
"এখন উনি সেজেগুজে মেকআপ নিয়ে একেবারে ভ্রু ট্রু এঁকে হাসপাতালে যান আর এদিকে তার ডাক্তাররা আবার রিপোর্ট দেয় খুবই খারাপ অবস্থা!
মানে একেবারে নাকি যায় যায়। তার লিভার নাকি পচে শেষ। তা লিভার সাধারণত পচলে মানুষ কী বলে সেটা আর আমি মুখ দিয়ে বলতে চাই না। কী খেলে তাড়াতাড়ি লিভার পচে সেটা তো সবাই জানেনই।"
২.
এজলাসে বসে ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ শোনেন খালেদা জিয়া। তাকে রাখা হয় পুরান ঢাকার পরিত্যাক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেসময় সাথে ছিলেন সহকারী ফাতেমা। তবে সেটি নিয়ে ছিল শেখ হাসিনার তাচ্ছিল্য…
“বেশি কিছু তো দেওয়ার নেই, একজন মেড সার্ভেন্ট দেওয়া হয়েছে। এরপর যদি আরও কিছু ডিমান্ড করে তখন কী করবেন?" (এসব বলতে বলতে হাসিনাকে দেখা যায় মিচকে হাসি দিতে, তিনি খালেদার মেকআপ নিয়ে ইঙ্গিত করে হাসতে থাকেন)
জিয়া-খালেদার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দাম্ভিক ও কুটিল বক্তব্যঃ
১
"যখন জিয়াউর রহমান ঘরে তুলতে চায়নি, প্রতিদিন তো আমাদের বাসায় যায়ে বসে থাকতা, কান্নাকাটি করতা। চেয়ার পেতেও বসতা না, ওই লবিতে মোড়া ছিল, মোড়া পেতে বসতা। আমার বাবার বদৌলতে তুমি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে পেরেছো। নইলে বহু আগেই জিয়া ছেঁড়ে দিয়েছিল। জিয়ার আবার নতুন গার্লফ্রেণ্ডও ছিল। তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবং তার সংসারটা রক্ষা করে দিয়েছিল আমার বাবা।"
শিক্ষা নিয়ে কটাক্ষ ও ঠাট্টা তামাশাঃ
১
"বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তিনি নাকি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, ম্যাট্রিক পরীক্ষা। তাতে পাশ করেছিলেন অংক আর উর্দুতে। কারণ উর্দু পাকিস্তানের ভাষা, এটা তার খুব প্রিয় ভাষা আর অংক তো আবার টাকা গণায় লাগে তাই ওটাই ভাল বোঝে। কাজেই ওটাই পাশ করেছে। আর কিছুতে পাশ করতে পারে নাই।"
২
"জিয়াউর রহমান ছিল ম্যাট্রিক পাশ, খালেদা জিয়া ম্যাট্রিক ফেল আর তার ছেলে কয়েকবার বিভিন্ন স্কুল থেকে এক্সপেলড হয়ে শেষে শোনা যায় কোন এক অখ্যাত জায়গা থেকে নাকি একটা সার্টিফিকেট জোগাড় করেছে। কিন্তু কী পাশ করেছে তা কেউ বলতে পারে না।" ( হাসিনার হাসি)
অসুস্থতা নিয়ে হাসি-তামাশা ও অসংবেদশীল কথাবার্তাঃ
১
“খালেদা জিয়া অসুস্থ তাকে বিদেশে পাঠাও। আহ্লাদের আর শেষ নাই।"
২
"এই মরে মরে এই যায় যায়। বয়স তো ৮০´র উপরে, তো এমনি তো সময় হয়ে গেছে, তারমধ্যে অসুস্থ। এখানে এত কান্নাকাটি করে তো লাভ নাই।
৩
“খালেদা জিয়া ভাল করে খায় দায়, বহাল তবিয়তে থাকে, যে-ই মামলার তারিখ থাকে তিনি অসুস্থ হয়ে যান। এ আরেক নাটক শুরু হয়ে গেছে।"
৪
“এরকম আয়েশ করে তো আর কেউ পায়েস খেতে পারে নাই যা উনি খাচ্ছেন।"
অহমিকা, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ
১
"আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছিল বলেই না এই ক্যান্টনমেন্ট। আর মেজর জিয়ার ওই ‘মেজর জেনারেল' প্রোমোশনটা তো আমার বাপেরই দেওয়া ছিল। আর আমি ক্যান্টমেন্টে ঢুকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা। সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ওই ক্যান্টনমেন্টে আর বসবাস করতে হবে না। যেদিন সময় পাবো বাইর করে দেবো। বের করে দিছি।"
তারেক রহমান সম্পর্কে মন্তব্যঃ
১
“আর একজন কুলাঙ্গার বানিয়ে রেখে গেছে জিয়াউর রহমান, সে এখন লন্ডনে বসে আছে।"
এছাড়া লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে খালেদা-ফালুকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ছড়াতেন। এমনও বলতে শোনা গেছে খালেদার সাথে ফালুকে দেখে তারেক রেগে গিয়ে গু*লি করে দেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মোসাদ্দেক আলী ফালু।
মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়ার আর্মির হাতে আটক থাকাকে উদ্দেশ্য করে কুৎসিত আলাপ করা হতো। লীগের অশিক্ষিতদেরকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে দেখা যেতো এইসব রসাল আলাপ।
শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সহ্য করতে পারতেন না। সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে এ নিয়ে বিস্তর আলাপ আলোচনা রয়েছে। প্রখ্যাত গবেষক মাহফুজ উল্লাহ এক ব্যক্তিগত আড্ডায় মহিউদ্দিন আহমেদকে বলেছিলেন, ৩ টি কারণে হাসিনা হিংসা করেন খালেদা জিয়াকে।
প্রথমত, খালেদা জিয়া তার চেয়ে সুন্দরী।
দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখ মানুষ এসেছিলেন। অপরদিকে হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জানাজায় তেমন লোকসমাগম হয়নি। আর শেখ হাসিনা তার ছেলে জয়কে নিজ দলের নেতৃত্বে জায়গা করে দিতে পারেননি।
তৃতীয়ত, খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে তারেক রহমানকে নিজ দলে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।
উপরে উল্লিখিত হাসিনার বক্তব্য ও মন্তব্যকে যদি বিশ্লেষণ করে দেখি তো কী দেখতে পাই?
শেখ হাসিনার ছিল পেটভর্তি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব। ক্ষমতায় থেকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রুতাকে রাষ্ট্রীয়করণ করেছিলেন। খালেদা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে কেবল মতাদর্শগত বিরোধী হিসেবে দেখতেন না, তাকে (খালেদা) ধীরে ধীরে একজন নৈতিকভাবে তুচ্ছ, মানবিক মর্যাদাহীন এবং হাস্যকর সত্তা হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। এটিকে "enemy construction" বলা যেতে পারে, যেখানে প্রতিপক্ষকে যুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা না করে অবমাননা ও হেয় করার মাধ্যমে অকার্যকর করে তোলা হয়।
হাসিনা খালেদাকে “dehumanisation" এর লেন্স দিয়ে দেখতেন। এই লেন্স দিয়ে দেখলে আপনি কাউকে মানুষ হিসেবে দেখতে পাবেন না। একটি ডি-ভ্যালুড অবজেক্ট হিসেবে দেখবেন। খালেদার অসুস্থতাকে হাসিনা “নাটক”, “আয়েশ”, “সময় হয়ে গেছে” বলে ওই ‘dehumanisation’ এর চর্চা করে গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যেতে দেননি। এতে করে তিনি খালেদা জিয়ার যন্ত্রণা, মানবিক মর্যাদা ও সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করেছেন। এভাবেই তিনি অসুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহানুভূতির যোগ্য মানুষের বদলে, বরং বিদ্রূপের বস্তুতে পরিণত করেছিলেন।
হাসিনার ব্যক্তিগত অহম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমারেখা মুছে দিয়েছিল। এটিকে আমরা power-ego fusion বলতে পারি। "আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছে”, “আমি বের করে দিয়েছি"এই বক্তব্যগুলো থেকে দেখা যায় কীভাবে রাষ্ট্র, ইতিহাস ও ক্ষমতা ব্যক্তিগত আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। এই patrimonial politics বা উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজনীতিতে ইতিহাস, স্বাধীনতা, পিতার ভূমিকা- সবকিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো দাবি করা হয়। রাষ্ট্রকে এখানে ব্যক্তির ইগো স্যাটিসফাইং টুলে পরিণত হতে দেখা যায়। ফলে হাসিনার নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রতিশোধ বা উচ্ছেদকে নৈতিকভাবে বৈধ বলে মনে হয়। ফলত একজন ব্যক্তির হিংসা নর্মালাইজ হয় আমাদের কাছে।
খালেদার দাম্পত্য সম্পর্ক, শিক্ষা, সন্তানকে নিয়ে আক্রমণ ব্যক্তিগত পরিসরের উপর হস্তক্ষেপ। রাজনৈতিক পরিসরে ব্যক্তিগত বিষয় এক্সপোজ করে দেওয়া হিউমিলিয়েশান। এরকম দায়দায়িত্বহীন কথাবার্তা একজন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারীর জন্য খুব স্বভাবিক। যুক্তি তখন আর কাজ করে না, humiliation as power, অন্যকে অপমান করে নিজের শক্তির প্রদর্শন দেখানোটাই মুখ্য হয়ে ওঠে।
রেফারেন্সঃ
১। ইত্তেফাক, ভিডিও
২। সূত্রঃ চ্যানেল ২৪, ভিডিও।
৩। ইত্তেফাক, ভিডিও, যুগান্তর পত্রিকা
ভিডিও লিংকসঃ
https://www.youtube.com/watch?v=1YTRe3-rkZo
https://www.youtube.com/watch?v=JudALzWbnnY
https://www.youtube.com/watch?v=rr7ZnkPRvuk
https://www.facebook.com/watch/?v=1532256591397853
https://www.facebook.com/watch/?v=1437483587880346
#রাহাতমুস্তাফিজ
শেখ হাসিনা কেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে অ/শোভন মন্তব্য করতেন? | Sheikh Hasina | Khaleda Zia | Ittefaq শেখ হাসিনা কেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে অ/শোভন মন্তব্য করতেন? | Sheikh Hasina | Khaleda Zia | IttefaqThe Da...
20/12/2025
বিদায় হাদী ভাই।
তুমি যে আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতা সেই স্বপ্নের লড়াই আমরা জারি রাখবো।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
06/12/2025
পাগল
এখনও যারা হাসিনার সমর্থনে মুগ্ধ তাদের জন্য পোস্টটিঃ
আপনি কি মনে করেন, হাসিনা ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে গণহত্যা চালায়নি?
আপনি কি মনে করেন, শাপলা চত্তরে হিফাজতিদের ওপর গণহত্যা চালায়নি?
(শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি সে, লাশগুলো অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে মিক্সার মেশিনে কীমা করে ময়লার ভাগারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিল।)
আপনি কি মনে করেন, পিলখানায় গণহত্যা চালিয়ে ৫৭জন চৌকস আর্মী বিডিআর সহ ৭৭ জনকে হত্যা করেনি?
আপনি কি মনে করেন, হাসিনা লগি-বইঠা দিয়ে গণহত্যা চালায়নি বিরোধী দলে থাকতে?
আপনি কি মনে করেন, ভয়ংকর আয়নাঘর সৃষ্টি করে হাজার হাজার মানুষকে গুম করে সেই আয়নাঘরে রেখে ভয়ংকর শাস্তি দেয়নি?
আপনি কি মনে করেন, হাসিনাসহ তার বাহিনী হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে পাচার করেনি?
আপনি কি মনে করেন, হাসিনা জনগণের বাক স্বাধীনতা হরণ করেনি?
আপনি কি মনে করেন, হাসিনা গণতন্ত্র বিলুপ্ত করেনি?
আপনি কি মনে করেন, বিনা ভোটে বলপূর্বক ক্ষমতা দখল করেনি সে?
আপনি কি মনে করেন না, হাসিনার শাসন শোষণে জনগণ ভয়সস্ত্র হয়ে বিড়ালের মতো দিনাতিপাত করত?
আপনি কি মনে করেন না, ছাত্রলীগ, যুবলীগকে দিয়ে সন্ত্রাসী খুনী বাহিনী তৈরি করে পান থেকে চুন খসলে তাদের লেলিয়ে দিত?
আপনি কি মনে করেন না, সাবেক ওসি প্রদীপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের হুকুমে দুশটার ওপরে খুন করেছে?
আপনি কি মনে করেন না, সাবেক মেজর জিয়াউল আহসান ১০৩০টা খুন করে পেট থেকে নাড়িভুড়ি বের করে ইট পাথর সিমেন্ট পেটে ভরে নদীতে ডুবিয়ে দিত?
আপনি কি মনে করেন না, দশ বারোটা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে হাসিনা বাহিনী?
(শুধু ইসলামি ব্যাংক থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে হাসিনা বাহিনী।)
আপনি কি মনে করেননা পুরো দেশটা ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল হাসিনা?
এতসব জানবার ও দেখবার পরও এখনও যারা হাসিনার পক্ষে কথা বলেন, হাসিনার শাসনকে ভালো বলেন, হাসিনাকে সমর্থন করেন তাদেরকে আসলে মানুষ বলা যায় না। পাপের ষোলকলা পূর্ণ হলে হাবিয়া দোজখ ফরজ হয় এবং হাবিয়া দোজখ ফরজ হলে তাদের কাছে ন্যায় অন্যায় বুঝে আসে না।
ন্যায় অন্যায় চিনতে না পারলে ভদ্রতা নম্রতা কোনো কাজে আসবে না এবং ভদ্রতা নম্রতা দিয়ে প্রশংসা কুড়ানো যায় না এবং যায় না আল্লাহকেও সন্তষ্ট করা।
#ভারত #মোদি
30/10/2025
বিবেকবান ভোটার রা ভালো রাজনীতিবিদ বানায় আর ভালো রাজনীতিবিদ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।আবেগীয় ক্রীতদাসরা অত্যাচারী রাজা রানী বানায় যারা নিয়ে আসে দুঃশাসন।
লাখ লাখ সমর্থক যদি আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের খুন,গুম,নৈরাজ্য,ভোট চুরি ও শিশু হত্যা সহ সকল অপরাধের দায়বার স্বীকার না করেও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এবং নির্বাচন বয়কট করে তাহলে এইসব অনৈতিক আবেগীয় ক্রীতদাস ভোটারদের ভোট বয়কটে আমার ধারণা গনতন্ত্র কিংবা দেশের তেমন কিছু যায় আসেনা।
Click here to claim your Sponsored Listing.