RIHA

RIHA

Share

As a dedicated
organization, our mission is to make free the poor one who are suffering to repay the loan that they have taken so far in need.

14/10/2025

আজকে এক ভদ্রমহিলা মারা গেলেন। ৮৪ বছর বয়স হয়েছিলো উনার, আল্লাহ পাক নিয়ে গেলেন। উনার মারা যাওয়ার ব্যপারটা ইন্টারেস্টিং না। কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মওঊত, মারা তো সবাইকেই যেতে হবে একদিন। ইন্টারেস্টিং হলো, উনি যেই প্রক্রিয়াটায় মারা গিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়াটায়।

বয়স্ক এই ভদ্রমহিলার একজন নয়, দুইজন নয়, পাঁচ পাঁচজন সন্তান রয়েছে, সবাই ই বিবাহিত। তিন ছেলে দুই মেয়ের এই গর্বিত মা জননী তিন ছেলেকে পুরান ঢাকায় তিনটি দোকান ভাগ করে দিয়েছেন। ছেলেদের সংসারের জয়েন্ট ফ্যামিলিতে থাকতেন। উনার মৃত্যুর প্রক্রিয়াটা শুরু হয় মাসখানেকের কিছু আগে।

মাসখানেক আগে থেকে প্রতিদিন তিনি বলতেন, "আমার না বুকে অনেক ব্যথা করে। আগে কম করতো, এখন অনেক বেশী করে।" ব্যথাটা কোথায় করে, সেটা জিজ্ঞেস করলে তিনি বুকের নির্দিষ্ট একটা পিনপয়েন্ট লোকেশন দেখাতেন। সন্তানরা বললো, "গ্যাসের ব্যথা, তুমি গ্যাসের ট্যাবলেট খাও।"

গ্যাসের ট্যাবলেট খাওয়া হলো একের পর এক, ব্যথা গেলো না। ভদ্রমহিলার অভিযোগ করতেই থাকলেন। তিনি বসা থেকে উঠতে গেলে বুকে ব্যথা পান, দাঁড়ানো থেকে বসতে গেলেও বুকে ব্যথা পান, এমনকি নি:শ্বাস নিতে গেলেও বুকে ব্যথা পান। সপ্তাহখানেক পরে তিনি ছেলেদেরকে আলাদা আলাদা করে ডেকে নিয়ে অনুরোধ করে বললেন, "আমাকে একটা ডাক্তার দেখাও না তোমরা!! বুকের ব্যথাটায় অনেক কষ্ট পাচ্ছি।"

ডাক্তার দেখানো হলো না। তবে এই ফ্যামিলিটার একটা দু:সম্পর্কের আত্মীয় আছে, যিনি কিছুদিন আগে এমবিবিএস পাশ করে এখন একজন সার্জন হিসেবে কাজ করছেন। সেই সার্জনের সাথে কনসাল্ট করা হলো, ফোনে।

কমবয়সী সেই ডাক্তার সিম্পটম শুনেই বললো, অসুখটা সুইমিংপুলের পানির মত পরিষ্কার, সমস্যাটা কার্ডিয়াক। আপনারা এক্ষণি একটা ইকোকার্ডিওগ্রাম করান, সাথে আরও দুটো টেস্ট করাবেন। দ্রুত ট্রিটমেন্টে চলে না গেলে বিপদ কিন্তু বাড়বে।

তিনটা টেস্ট করাতে সাড়ে চার হাজার টাকার মত লাগবে শুনে সন্তানরা সেগুলো করালেন না। তারা ইস্যুটা চাপা দিয়ে ফেলার জন্য বললেন, "আরে ধূর, এত টাকার টেস্ট লাগবে না। প্রবলেমটা মনে হয় গ্যাসেরই। মা খায় না ঠিকমতো, খাওয়াটা রুটিনমাফিক করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।"

ব্যথা গেলো না। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চললো। এরই মাঝে তারা একজনকে ডাক্তার সাজিয়ে বাসায় এনে ভদ্রমহিলার চেকাপ করানোর নাটকও করলেন। তাকে শান্ত করার জন্য জানানো হলো, "আপনার কিছুই হয় নাই। খাওয়াদাওয়াটা রুটিনমাফিক করবেন। সব ঠিক হয়ে যাবে।"

এভাবে দুই সপ্তাহ চলার পরে বয়স্ক ভদ্রমহিলা হুট করে একদিন পড়ে গেলেন, তার মুখ বেঁকে গেলো, কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলো। যেই সাড়ে চার হাজার টাকার টেস্ট সন্তানরা করাতে চাচ্ছিলো না, সেই টেস্টগুলোই তাকে হাসপাতালে এডমিট করার পরে করানো হলো। উনার শরীরে হোয়াইট ব্লাড সেল পাওয়া গেলো দেড় লাখ। এখন আইসিইউ ছাড়া উপায় নেই।

বাসায় তিন ভাইয়ের মিটিং বসলো। মায়ের দিয়ে যাওয়া পুরান ঢাকার তিনটা দোকান দিয়ে পেট চালানো তিন ভাইয়ের একজন বললো, "আইসিইউতে অনেক খরচ, এত টাকা কোথায় পাবো?? উই আর অল ব্রোক!!" বাকি দুই ভাই বিনা প্রশ্নে সম্মতি দিলো।

সেই কমবয়সী ডাক্তারটা এই ঘটনা জানার পরে নিজ উদ্যোগে নিজের চ্যানেল দিয়ে NICVD তে একটা আইসিইউ বেড জোগাড় করে দিলেন, যেখানে পার ডে তে খরচ পড়বে মাত্র দেড় হাজার টাকা। এই বেড পাওয়া আর লটারি পাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। সরকারি এবং এত সস্তা আইসিইউ বাংলাদেশে আর কোথাও নাই।

কমবয়সী ডাক্তারটা বয়স্ক মহিলার ছেলেদের শুধু হাত পায়ে ধরা বাকি রাখলেন ওখানে ভর্তি করানোর জন্য। এত অনুরোধেও কাজ হলো না, তারা মা কে ভর্তি করালো না। ঠিক সেই মুহূর্তটায় পরিষ্কার হয়ে গেলো, তাদের মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা জিনিসটা আসলে কখনোই ইস্যু ছিলো না।

তাকে বাসায় নিয়ে এসে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগিয়ে বিছানায় ফেলে রাখা হলো। মাঝেমধ্যে গা হাত পা টিপে মুছিয়ে দেয়া হলো। মাতৃসেবার নামে এই ভন্ডামি করে তারা এই বয়স্ক ভদ্রমহিলার মৃত্যুর অপেক্ষা করে গেলো।

মানুষের শরীরে হোয়াইট ব্লাড সেল বা WBC এর স্বাভাবিক রেঞ্জ হলো চার থেকে এগারো হাজার। WBC যখন ৬০-৭০ হাজারে যায়, তখন শরীরের ভিতরের সবকিছু আগুনে পুড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়। জ্ঞান থাকলে মানুষটা যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে, বরফ খেতে চায়, গায়ে পানি ঢালতে চায়।

এই ভদ্রমহিলার WBC ছিলো দেড় লাখ!! শরীরের ভিতর দিক থেকে পুড়ে যাওয়ার যেই যন্ত্রণাটা তিনি পেয়েছেন, সেটা এমনকি বর্ণনা করাও সম্ভব না।

ভদ্রমহিলা আজকে মারা গিয়েছেন। কারও মৃত্যুতে আলহামদুলিল্লাহ পড়া উচিৎ না, কিন্তু আমি পড়লাম। উনার সকল যন্ত্রণার অবসান করে দেয়ার মত দয়া দেখানোর জন্য আমি আল্লাহপাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করলাম।

আইসিইউ ম্যানেজ করে দেয়া সেই ডাক্তার দুই ঘন্টা সময় নিয়ে আমাকে ঘটনাটা বলেছেন। শেষদিকে কান্না আটকানোর জন্য উনি কথা বলতে পারছিলেন না। ভাঙা ভাঙা গলায় আমাকে বললেন, "এই মহিলার এক ছেলের বউ ইনফার্টাইল, কোনোদিন বাচ্চা হবে না। এটা জানার পরেও এই মহিলা কোনোদিন মনের ভুলেও ছেলের বউকে কোনোদিন খোঁটা দিয়ে কথা বলেন নাই। ছেলেকে আরেকটা বিয়েও করতে বলেন নাই। সেই মায়ের সাথে কিভাবে পারলো এত নিষ্ঠুর হতে এরা?? মায়ের লিখে দেয়া দোকান থেকে ইনকাম করে খাচ্ছে। সেই মায়ের চিকিংসার সময় এই কাজটা এরা কিভাবে করলো??"

কিছু কিছু সময় আসে, যখন মানুষ আসলে শুধু প্রশ্নটাই করতে চায়। উত্তর পাওয়াটা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না, প্রশ্ন করার ফ্লোর পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আমি এক অখন্ড নীরবতার মধ্যে এই প্রশ্নটাকে বহমান নদীর কচুরিপানার মত ভেসে যেতে দিলাম।
সংগৃহীত

Want your business to be the top-listed Finance Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Dhaka