Edutainment
চারিদিকে শিক্ষকদের হেনস্তা হতে দেখেও আমি মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছি। আমি কুলুপ এঁটেই বসে থাকবো।কারন -
আমি শিক্ষক হয়ে চাক্ষুস দেখেছি আমারই ছাত্রীর যৌন হয়রানি।এ টেবিল, ও টেবিল ঘুরেও তাঁকে বিচার দিতে পারিনি।বরং দেখেছি সেই কুলাঙ্গার শিক্ষকের পদোন্নতি।তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তিতে হাতে তালি দিয়েছি।
আমি চুপচাপ দেখেছি প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষককে হুমকি দিতে,পরীক্ষায় ফেল করাতে।দেখেছি তারাই অন্য যোগ্য শিক্ষককে টপকে সেই বিষয়ের শিক্ষক না হয়েও গুরুত্বপূর্ণ (!) বিষয়ের ক্লাস নিতে, যাতে সে প্রাইভেট পড়াতে পারে।
সেই সব শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এতটা কাছাকাছি থাকতেন যে তাদের দেখে তটস্থ থেকেছি দিনের পর দিন। সাহস নিয়ে যারা প্রতিবাদ করেছে তাদের হেনস্তা হতে দেখেছি।
আমি দেখেছি শিক্ষার্থী ভর্তির বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উপহারের নামে ঘুষ নিতে।দেখেছি তাকে খুশি করতে একজন সাধারণ শিক্ষক কিভাবে একজন অভিভাবককে ঘুষ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
আমি নিজে চুপচাপ নির্বাচনে ভোট চুরি/ডাকাতির অংশ হয়েছি।সেদিন ফেসবুকে একটা শব্দও লেখিনি।আমার ধারণা দুই চারজন ছাড়া কোনো শিক্ষকের ফেসবুক ঘেঁটে পাওয়া যাবে না।আজ যতটুকু লিখছি তাও ঐ বেয়াদব ছাত্র ছাত্রীদের বদৌলতে।অথচ তাদের উপরে যখন নির্বিচারে গুলি চলেছে তখনও চাকরির ভয়ে একটা কথা লেখিনি। আজ আমার মর্মবেদনা লিখছি- আমি কতবড় সুবিধাবাদী। যে গরু দুধ দেয় তার দুই/চারটা লাথি যে খেতে হয়।
যা বলছিলাম, সেদিনও যখন আমি প্রতিবাদ করিনি, আজও করবোনা। আজ শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হতে দেখে যেনো নিজেকে লাঞ্ছিত হতে দেখছি। কারণ তাদের যে দোষের কথা বলে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে সেই অন্যায় বছরের পর বছর সহ্য করে আমিও যে সমান অপরাধী।এসব দেখে আমরা যারা ফেসবুক গরম করছি, তারা সহকর্মীদের এসব অন্যায় দেখে একটা কথাও লেখিনি। শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়ে একটা পোস্ট দেইনি।দিলেও মিডিয়ার ভাইরাল হওয়া কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখছি। নিজের সহকর্মীর বেলায় মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলাম।বড়জোর পেছনে ফিসফাস পর্যন্তই শেষ। আজ হয়তো অনেকে সাহসী হয়েছেন, বিবেক জাগ্রত হয়েছে।কিন্তু আমি সেই ভীতু, বিবেকহীনই রয়ে গেলাম।
প্রায় প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে খুব বেশি হলে ২/১ জন যৌন নিপীরক, ২/১ জন প্রাইভেট ব্যবসায়ী এবং চাটুকার থাকে। এবং কোনো এক দৈব বলে তারা প্রধানদের খুব প্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা বেশিরভাগ সৎ হওয়া সত্বেও তারা বহাল তবিয়তে রাজত্ব করে। যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকেও এড়িয়ে চলি,পাছে নিজে ঝামেলায় পড়ি। কারন আমরা বেশিরভাগ সৎ হলেও (ঐ সব ভন্ড ও চাটুকারদের তুলনায়)আমরা ভীতু ও সুবিধাবাদী।
সেদিন যদি ঐ দুই-চারজনকে আমরা প্রতিবাদ করে সংশোধন অথবা বিতাড়িত করতে পারতাম তাহলে আজ হয়তো শিক্ষক হয়ে শিক্ষকের লাঞ্চনা দেখতে হতো না।আমি সেদিন প্রতিবাদী হলে আজও প্রতিবাদী হতে পারতাম। কোন মুখে প্রতিবাদ করি বলুনতো? ঐ নিপীড়িত ছাত্রী যদি আমাকে প্রশ্ন করে ম্যেডাম / স্যার সেদিন আপনার কাছে গিয়েছিলাম।কই কী করতে পেরেছিলেন? আমি কী জবাব দেবো বলুতো!?
# আমি কোনোভাবেই এই লাঞ্চনার পক্ষে নই।শুধু শিক্ষক হিসেবে আত্মসমালোচনা করলাম।এখনই সময় নিজেকে নিজেদের শুধরে নেবার।
Copy from Rehana Parven, BAFSC School.
অন্তরবর্তীকালীন(interim) কোটা চলেছিল ৫৪ বছর, তা বাতিল করতে প্রাণ গেল হাজারের অধিক । তাই অন্তরবর্তীকালীন শব্দটা শুনলেই কেমন যেন লাগে !
Such treatment has been meted out to a population (Students), disarmed and resourceless, by a power which has the most terribly efficient organization (League) for destruction of human lives, we must strongly assert that it can claim no political expediency, far less moral justification.
Letter from Rabindranath Tagore to Lord Chelmsford, Viceroy of India
( যুগে যুগে শাসকদের চিত্র )
12/06/2024
যে সকল শিক্ষার্থীরা 2022, 2023 ও 2024 সালে SSC পাশ করেছে, তারা HSC তে ভর্তি হতে পারবে এবং যে সকল শিক্ষার্থীরা 2021, 2022 ও 2023 সালে HSC পাশ করেছে, তারা BA, BSS এবং BBA(Professional) কোর্সে ভর্তি হতে পারবে ।
Click here to claim your Sponsored Listing.