Muntasir Rasel
ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আজ কার্যত একা। রাষ্ট্রের কোনও গুরুত্বপূর্ণ অর্গান এই সরকারকে সহায়তা করছে না—না পুলিশ, না প্রশাসন, না গোয়েন্দা বাহিনী। এরা কেউই চায় না রাষ্ট্র সংস্কার হোক।
কারণ রাষ্ট্র সংস্কার হলে তাদের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ চিরতরে বন্ধ হবে। রাষ্ট্র সংস্কার হলে সেইসব আমলা-পুলিশ-গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যারা গত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনের ছায়ায় দুর্নীতি আর দমন-পীড়নের রাজত্ব চালিয়েছে, তাদের জবাবদিহি ও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই ভয়েই তারা সর্বাত্মক ভাবেই চাইছে পুরনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ এই সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। প্রয়োজন ছিল কেবল আগাম প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু তা হয়নি। কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীন থেকেছে। স্পষ্টত তারা চাইছে এই সরকার যেন ব্যর্থ হয়। দেশে যেন অস্থিরতা থাকে। যাতে পরে আরেকটি গতানুগতিক ‘নির্বাচন’-এর নাটক সাজিয়ে ফ্যাসিবাদেরই নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
আসলে এই সরকার এখন একপ্রকার রুটিন সরকার হয়ে গেছে। কোনও সংস্থা তার নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র—সবখানে আগের সরকার আমলে নিয়োগ পাওয়া, সুবিধা পাওয়া, অনুগতদের ছড়াছড়ি। এমনকি দলীয় ম্যান্ডেটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও আছেন বহাল। এক কথায় পুরো আওয়ামীতন্ত্র এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছে।
ফলে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতা: সরকার নতুন, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরনো। যাকে বলা যায় “দ্য গভর্নমেন্ট উইথআউট দ্য স্টেট”—সরকার আছে, কিন্তু রাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণে নেই। এখন প্রশ্ন একটাই এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র সংস্কার কি সম্ভব ?
রাষ্ট্রকে শুধুই প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে চেনা যায় না। এর পেছনে কাজ করে এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়—যাকে আমরা বলি “ডিপ স্টেট”। এরা চায় না জনগণের হাতে ক্ষমতা যাক, চায় না রাষ্ট্র কাঠামো বদলাক। তারা চায় স্থিতাবস্থা—যে ব্যবস্থায় ক্ষমতা থাকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীর হাতে।
এই চক্র ভেঙে ফেলা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্পষ্টতা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং সর্বোপরি—জনগণের সচেতন, সংগঠিত অংশগ্রহণ।
এই সরকার যদি সত্যিই রাষ্ট্র সংস্কার করতে চায়, তবে তার জন্য দরকার—
১.রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেয়া;
২.প্রশাসনিক অসহযোগিতাকে কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করা;
৩.একটি স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন রোডম্যাপ ঘোষণা করা;
৪.বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত গ্রহণ ও খোলামেলা সংলাপ করা। এবং
৫. রাষ্ট্রের অদৃশ্য ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর মুখোশ উন্মোচন করে সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
অন্যথায়, এই সরকার ফ্যাসিবাদের শিকড় অক্ষত রেখে শুধুই একটা মুখপাত্র হয়ে থাকবে—যার পেছনে কুশীলব অন্য কেউ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka