Colorful life
“Keep away from prohibited things and you will be among the best of worshippers.”
সূরা আরাফ :
আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফেক্ট পেলাম
ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে
আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি
হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম
অথচ এই সুরার মাধ্যমে আমাদের জানানো হলো যে
না!
জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা লোকেশন আছে
লোকেশনটার নাম আরাফ!
এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নাম করন
"আরাফ" হবে তাদের জন্য
যারা এতটাও ভালো কাজ করেনি যেঁ জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে
আবার এতটাও খারাপ কাজ করেনি যেঁ জাহান্নামে যেতে হবে
এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!
এই আরাফবাশি সবসময়ই আশায় থাকবে যে
তাদেরকে যেন কোন না কোন সময় জান্নাতে আপগ্রেড করা হয়. [১]
এই আরাফ ছাড়াও হাশর আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফেক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা
আর সেটা হলো কান্তারা!
আমরা মনে করি
"কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি!"
ভুল!
পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়
পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।
হাশরের দিনে বিশাসীদের বিচার হবে দু বার
এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে
আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে
জি ঠিকই শুনেছেন
পূর্বের বিচার হবে
"স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার"
আর পরের বিচার হবে
"বান্দার হক নষ্ট করার বিচার"
আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে
সেই জায়গাটির নামই হলো "কান্তারা"
আল-কান্তারাহ হলো সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত
বিস্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে
তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে
এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন [২]
কল্পনা করুন,
একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ-তে জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে
অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না
কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ
উলটো তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে হচ্ছে
সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?
আমার রাসুল স: অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে
"মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া বা ব্যাংকরপ্টড
রাসূল স: বলেছেন
“তোমরা কি জানো , কে আসল দেউলিয়া?”
সাহাবারা উত্তর দেন
“যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”
রাসূল স: বললেন
“না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি
যেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে
অথচ সে দেখতে পাবে যে
সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে কারণ জীবদ্দশায়
সে অন্যদের গালি দিয়ে বেড়াতো
অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো
অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো
অন্যের রক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং
অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো
আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে ট্র্যান্সফার করে দিতে হচ্ছে
শুধু তাই না
যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে
তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে
এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” [৩]
তাই বলছি
আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি
আপনার মুখের স্পিচ দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন
কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন
তাদের জন্য একটাই কথা
দেখা হবে বন্ধু
দেখা হবে কান্তারায়!
এক রাতে জালালউদ্দিন রুমি (রহ.) তাঁর শিক্ষক শামসুদ্দিন তাবরিজিকে নিজের ঘরে আমন্ত্রণ জানালেন।
মুরশিদ শামসুদ্দিন আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন এবং রুমির ঘরে এলেন।
সব খাবার প্রস্তুত হওয়ার পর শামস রুমিকে বললেন: তুমি কি আমাকে পানীয় দিতে পারবে? (মানে মদ/আলকোহল)।
রুমি এটা শুনে বিস্মিত হলেন: কী! শিক্ষকও কি পান করেন?
হ্যাঁ – শামস উত্তর দিলেন।
রুমি তখনো অবাক হয়ে বললেন: দুঃখিত, আমি এটা জানতাম না।
এখন জেনে গেলে। সুতরাং ব্যবস্থা করো।
এমন রাতে আমি কোথা থেকে মদ আনবো?
তোমার কোনো দাসকে পাঠিয়ে দাও কিনতে।
আমার দাসদের সামনে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়ে যাবে।
তাহলে তুমি নিজেই বের হয়ে কিনে আনো।
সারা শহর আমাকে চেনে। আমি কীভাবে মদ কিনতে বাইরে যাব?
যদি সত্যিই তুমি আমার শাগরেদ হও, তবে আমাকে যা চাই তা এনে দাও। মদ ছাড়া আজ রাতে আমি খাব না, কথা বলব না, ঘুমাতেও পারব না।
শিক্ষকের প্রতি ভালবাসা থেকে রুমি শেষমেশ তাঁর চাদর পরলেন, ভেতরে একটি বোতল লুকালেন এবং খ্রিস্টান পাড়ার দিকে রওনা দিলেন।
যতক্ষণ তিনি মুসলিম পাড়ায় ছিলেন, কেউ কিছু ভাবেনি। কিন্তু খ্রিস্টান এলাকায় ঢুকতেই কিছু লোক অবাক হয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করল।
তারা দেখল, রুমি একটি মদের দোকানে ঢুকলেন। তাঁকে দেখা গেল একটি বোতল কিনলেন এবং পরে সেটা চাদরের নিচে লুকিয়ে বের হলেন।
লোকেরা তাঁকে অনুসরণ করতে থাকল, আর ভিড় বাড়তে লাগল। অবশেষে রুমি শহরের জামে মসজিদের সামনে এসে পৌঁছালেন, যেখানে তিনি ইমামতি করতেন।
হঠাৎ ভিড়ের একজন চিৎকার করে উঠল: “হে মানুষ! শেখ জালালউদ্দিন রুমি, যিনি প্রতিদিন তোমাদের নামাজে ইমামতি করেন, তিনি এখনই খ্রিস্টান এলাকায় গিয়ে মদ কিনেছেন!”
সে লোকটি রুমির চাদর সরিয়ে দিল। সবাই দেখল তাঁর হাতে একটি বোতল।
সে লোকটি প্ররোচনামূলকভাবে চিৎকার করতে লাগল: “যে মানুষকে তোমরা পরহেজগার বলে মানো, যাঁর অনুসারী, তিনি মদ কিনেছেন এবং ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন!”
জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। তাঁরা রুমির মুখে থুথু নিক্ষেপ করল, তাঁকে মারতে লাগল, এমনকি তাঁর পাগড়ি গলায় নেমে গেল।
রুমি কিছু না বলে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। এতে ভিড় আরও নিশ্চিত হল যে তারা রুমির তপস্যা ও ধর্মভীরুতার দ্বারা প্রতারিত হয়েছে।
তারা আর দয়া করল না, মারতে লাগল, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে হত্যা করতে চাইছিল।
হঠাৎ শামস তাবরিজির কণ্ঠ শোনা গেল: “হে লজ্জাহীন জনতা!
তোমরা একজন আলেম ও ফকিহকে মদ্যপ বলে অভিযুক্ত করেছ। জেনে রাখো, ওই বোতলে রান্নার জন্য ভিনেগার আছে।”
জনতার একজন প্রতিবাদ করল: “না, এটা ভিনেগার নয়, এটা মদ। আমি নিজ চোখে দেখেছি রুমিকে মদের দোকান থেকে কিনতে।”
তখন শামস বোতলটি হাতে নিলেন, মুখ খুললেন এবং সামান্য তরল লোকদের হাতে ঢাললেন যেন তারা গন্ধ নিতে পারে।
সবাই হতবাক হয়ে গেল, কারণ তা আসলেই ভিনেগার ছিল।
আসলে, রুমির ঘরে যাওয়ার আগে শামস মদের দোকানে গিয়েছিলেন এবং দোকানদারকে বলে গিয়েছিলেন—যদি রুমি মদ কিনতে আসে তবে তাকে ভিনেগারে ভরা বোতল দিতে।
জনতা লজ্জায় মাথা কুটে ফেলল এবং রুমির পায়ে সেজদা করল।
তারা ক্ষমা চাইতে লাগল, তাঁর হাত চুমু খেতে লাগল এবং একে একে চলে গেল।
রুমি শামসকে বললেন: “আজ রাতে তুমি আমাকে এক বড় বিপদে ফেলেছ। আমার অনুসারীদের সামনে আমাকে নিজের সম্মান ও মর্যাদা কলুষিত করতে হয়েছে। এর মানে কী?”
শামস বললেন:
“যাতে তুমি বুঝতে পারো, মানুষের দেয়া সম্মান ও মর্যাদা আসলে এক মরীচিকা ছাড়া আর কিছু নয়।
তুমি কি ভেবেছিলে সাধারণ মানুষের সম্মান চিরস্থায়ী?
তুমি নিজেই দেখেছ, মাত্র একটি বোতল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার কারণে সব সম্মান উবে গেল, তারা তোমাকে থুথু মেরেছে, মেরেছে, এমনকি মারতে চেয়েছে।
এই কি সেই সম্মান, যার ওপর তুমি এত গর্ব করছিলে, যা মুহূর্তেই হারিয়ে গেল?
আজ থেকে মানুষের কাছ থেকে সম্মান খোঁজা বন্ধ করো এবং ভরসা করো তাঁর ওপর, যাঁকে সময় নাড়াতে পারে না, যুগের পরিবর্তন ভাঙতে পারে না।
তিনি, সর্বশক্তিমান আল্লাহ, জানেন কে সত্যিই সম্মানিত আর কে কেবল ভুয়া সম্মানের পেছনে ছুটছে।
আজ থেকে শুধু আল্লাহ্ তাআলার ওপর নির্ভর করো। তিনি জানেন কে সত্যিকার সম্মানিত আর কে মিথ্যা।”
“The only success of cowardice state of Israel is killing of 33000 of innocent civilians including family members of Hamas leaders.”
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকা ফি’লাল খাইরাতি, ওয়া তারকাল মুনকারাতি, ওয়া হুব্বাল মাসাকিনি, ওয়া আন-তাগফিরালি, ওয়া তারহামানি, ওয়া ইজা আরাদতা ফিতনাতা কাউমিন ফাতাওয়াফফানি গাইরা মাফতুনিন। আসয়ালুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মান ইয়ুহিব্বুকা ওয়া হুব্বা আমালিন ইয়ুকাররিবু ইলা হুব্বিকা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভালো ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনের, মন্দ কাজগুলো বর্জনের, দরিদ্রজনদের ভালোবাসার তাওফিক চাই, তুমি আমায় ক্ষমা কোরো ও দয়া কোরো। তুমি যখন কোনো গোত্রকে বিপদে ফেলার ইচ্ছা কোরো, তখন তুমি আমাকে বিপদমুক্ত রেখে তোমার কাছে তুলে নিও। আমি প্রার্থনা করি তোমার ভালোবাসা, যে তোমায় ভালোবাসে তার ভালোবাসা এবং এমন কাজের ভালোবাসা, যা তোমার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে দেয়।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, স্বপ্নটি অবশ্যই সত্য। অতএব তা পড়, তারপর তা শিখে নাও। ইমাম তিরমিজি (রহ.) হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত বলে মন্তব্য করেছেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩২৩৫
Click here to claim your Sponsored Listing.