Family Seba
02/01/2024
চুলের যত্নে তুলসী পাতা :
----------------------------
তুলসীতে পাওয়া ঔষধিগুণ নানাভাবে চুলের উপকার করে। সেই সঙ্গে চুল পড়া (Hair Fall), খুশকি (Dandruff) ও শুষ্ক চুল থেকে মুক্তি পেতে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি আপনার চুল সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হন তবে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।
তুলসী পাতাকে শুকিয়ে পাউডার তৈরি করে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। তুলসী পাতা চুলের ফলিকলগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করতে সহায়ক, যা চুল পড়ার সমস্যাও নিরাময় করতে পারে। এছাড়াও এটি মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনি তুলসী পাতাকে কী কী উপায়ে চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারবেন।
তুলসী পাতার তেল- চুল পাতলা হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকে। পরে তা কমতে থাকে, এর জন্য অনেকে ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার আশ্রয় নেয়। আজকাল নারী-পুরুষ উভয়েই এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সমস্যা মোকাবেলায় তুলসী পাতা মিশিয়ে ভেষজ তেল তৈরি করতে পারেন। এর জন্য যে কোনও হেয়ার অলের সঙ্গে কিছু তুলসী পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মেশানোর পর ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এই সময় তেল রোদে রাখার চেষ্টা করুন। এরপর এটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
হেয়ার মাস্ক- খুশকি তৈলাক্ত এবং শুষ্ক উভয়ই হয়। যদিও শুষ্ক খুশকির মোকাবিলা করার জন্য অনেক ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, কিন্তু আপনি যদি তৈলাক্ত খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন তবে কারি পাতা এবং তুলসী মিশিয়ে একটি হেয়ার প্যাক তৈরি করতে পারেন। এর জন্য ১০টি কারি পাতা এবং তুলসী পাতা একসঙ্গে মেশান। এর সঙ্গে ১ বা ২ ফোঁটা পেপারমিন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল মেশান। এবার এটি আপনার মাথার ত্বকে লাগান। যদি এটি পাউডার আকারে হয় তবে আপনি দই মিশিয়ে প্রয়োগ করতে পারেন। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কারি ও তুলসী পাতা নেবেন। হেয়ার মাস্কটি অন্তত ৩৫ মিনিট রাখার পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
হেয়ার স্প্রে- তুলসী পাতার জলও চুলের জন্য ভালো। কিছু মানুষের জন্য এটা জাদুর মত কাজ করে। হেয়ার প্যাক লাগানোর সময় না থাকলে তুলসীর জলও ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য ৩ গ্লাস জল গরম করুন। এবার এতে ২০-২৫টি তুলসী পাতা মেশান। ভালো করে ফুটিয়ে নিন, যাতে এর রস জলে দ্রবীভূত হয়। এরপর এটি ঠান্ডা করে নিন। এবার শ্যাম্পু করার পর এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই সময় আপনার আঙুল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে থাকুন। এই দেশীয় পদ্ধতি খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
30/12/2023
চুলের যত্নে রিঠা :
-------------------------
রিঠা মূলত এক ধরনের ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্পিনডুস এমারজিনাতুস
গায়ে মাখার সাবানের উপাদান হিসেবে রিঠা বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষে প্রাচীন কাল থেকে রিঠা আয়ুর্বেদশাস্ত্রে নানাভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে চুল পরিষ্কারের জন্য রিঠার ব্যবহার আদিকাল থেকে। রিঠা সম্পূর্ণ প্রাকৃৃতিক গুণাগুণসম্পন্ন একটি ভেষজ উপাদান। রিঠা ব্যবহারে চুলের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।
এটি গোসলের সময় শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
উপকারিতা:
১। রিঠা চুলের ডগা ফাটা বন্ধ করে
২ । মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে
৩ । চুলের ঘনত্ব বাড়ে।
৪। চুল পড়া কমে
৫। উকুনের সমস্যা সমাধান হয়
৬। কন্ডিশনার ব্যবহার করার দরকার হয় না
৭। চুল ভালো ও মজবুত থাকে
৮। কোঁকড়া চুল সোজা হয়
৯ । চুল নরম ও মসৃণ করে
১০। নতুন চুল গজায়।
সতর্কতা:
১. চুল শুষ্ক হলে অল্প পরিমাণে রিঠা ব্যবহার করতে হবে।
২. সপ্তাহে দুবারের বেশি রিঠা দিয়ে শ্যাম্পু করা যাবে না। এতে চুল বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
৩. রিঠা ব্যবহার করলে নিয়মিত সপ্তাহে এক দিন চুলে নারকেল তেল দিতে হবে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
29/12/2023
চুলের যত্নে শিকাকাই :
-------------------------
মজবুত ও ঝলমলে চুলের জন্য শিকাকাই অতুলনীয়। প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে এই ভেষজে। শিকাকাই পাউডার দিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন চুলের যত্নে। এটি চুল দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ করবে চুল পড়া। জেনে নিন কীভাবে চুলের যত্নে শিকাকাই পাউডার ব্যবহার করবেন।
হেয়ার প্যাক ১:
একটি পাত্রে ১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
৩ চা চামচ নারকেল তেল মেশান।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
১ ঘণ্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।
দুই সপ্তাহে একবার ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ২:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ টেবিল চামচ আমলকীর তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
মাসে একবার ব্যবহার করুন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৩:
একটি পাত্রে ১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ টেবিল চামচ গ্রিন টি লিকার মিশিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করুন।
চুলের গোড়ায় ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন।
পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল।
১৫ দিনে একবার ব্যবহার করুন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৪:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ থেকে ৩ চা চামচ দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
শুকিয়ে গেলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
মাসে একবার ব্যবহার করতে পারেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৫:
একটি পাত্রে ২ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শিকাকাই পাউডার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
চুলে মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট।
কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
দুই সপ্তাহ পরপর ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৬:
একটি পাত্রে পরিমাণ মতো শিকাকাই পাউডার নিন।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি।
আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।
মাসে একবার ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক
হেয়ার প্যাক ৭:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন বাটিতে।
আধা চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মেশান।
২ চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
27/12/2023
চুলের যত্নে লবঙ্গ :
----------------------
লবঙ্গের পানিতে থাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা অ্যান্টি-হেয়ার লস হিসেবে কাজ করে। তাই চুল পড়া রোধ করতে চাইলে এটি ব্যবহার করতে পারেন।বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, লবঙ্গ দিয়ে তৈরি পানিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল উপাদান। এই মসলায় থাকে ফেনলিক এবং ফ্যাভোনয়েড, যা কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে। এই উপাদান চুলের জন্য দারুণ উপকারী।
জেনে নিন চুলে লবঙ্গ ব্যবহারের উপকারিতা :
(১) মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে কাজ করে।
(২) চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
(৩) চুল কোমল করে।
(৪) চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাতে কাজ করে।
(৫) স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও খুশকির সমস্যা দূর করে।
(৬) চুল লম্বা করে।
(৭) চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমায়।
(৮) অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
25/12/2023
চুলের যত্নে তিসির তেল :
-----------------------------------
তিসির বীজে ভিটামিন বি রয়েছে যা আপনার চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করতে এবং দ্রুত চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, তিসির বীজে ভিটামিন ই রয়েছে যা আপনার মাথার ত্বকে ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমায়, যা দ্রুত চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। তিসির বীজ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলি ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে।
তিসির বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মাছের মধ্যেও পাওয়া যায়। কিন্তু তিসির বীজে আলফা-লিনোলিক অ্যাসিড নামে ভিন্ন আকারে উপস্থিত থাকে। এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
তিসির বীজের মধ্যে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আছে। এটি চুলের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। তিসির বীজ ভিটামিন ই, ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। তিসির বীজে থাকা ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। এটি চুল মজবুত করতে সাহায্য করে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
23/12/2023
চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল :
------------------------------
ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পে মালিশ করলে কি চুলের বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল যে, কোনও গবেষণায় এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ক্যাস্টর অয়েলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে. যেগুলি চুলের জন্যে বেশ উপকারী। স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখে। খুশকির প্রকোপও কমে। চুলের বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
তাহলে আর অপেক্ষা কেন, জেনে নেওয়া যাক ক্যাস্টর অয়েলের গুণাগুণ।
স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখে:
ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে। গবেষণাতেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান আপনার স্ক্যাল্পের নানা সমস্যা মেটাবে।
এছাড়াও ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানের হদিশও মেলে। এটি আপনার স্ক্যাল্পের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে, খুশকিও কমবে। গবেষণাতেও এই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে।
স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই চুলের বৃদ্ধি হয় দেখার মতো। অকারণে অতিরিক্ত চুলও ঝরে না।
ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত স্ক্যাল্পে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই টক্সিন বেরিয়ে যায়। হেয়ার ফলিকলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেটে। তাই চুলের স্বাস্থ্য ফিরতেও সময় লাগবে না।
ক্যাস্টর অয়েল আপনার চুলকে ময়শ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে। চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়া এবং ডগা-চেরা চুলের সমস্যাও কমায়।
এই তেলে আছে রাইসিনোলিক অ্যাসিড (Ricinoleic Acid)। গবেষণাতেও এই উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। এটি ফলে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং পাতলা চুল ঘন করতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
Click here to claim your Sponsored Listing.