sujan

sujan

Share

সফলতা অর্জনের জন্য অনেক ধৈর্য্য ধরে থাকতে হয়।সততা, আন্তরিকতা, মানবিকতা, বিশ্বাস হল মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ যা কখনো অর্থের মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না।কেবলমাত্র মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতিশীল আর ভালো বাসার মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

20/03/2026
25/02/2026

শেষ চিঠির ভালোবাসা 💔
(একটি দীর্ঘ বেদনাময় প্রেমের গল্প)
শীতের হালকা কুয়াশা ঢাকা এক বিকেলে, নদীর পাড়ে বসে ছিল অর্ণব। তার হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি। ডায়েরির পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে, কিন্তু ভেতরের শব্দগুলো এখনো টাটকা—কারণ সেগুলো লেখা হয়েছিল ভালোবাসা দিয়ে।
অর্ণব আর মেঘলার প্রথম দেখা হয়েছিল কলেজের প্রথম দিনে।
মেঘলা ছিল খুব চুপচাপ, শান্ত, সাদা সালোয়ারে এক টুকরো মেঘের মতো।
অর্ণব ছিল একটু দুষ্টু, একটু বেপরোয়া—কিন্তু হৃদয়টা ছিল একদম নরম।
প্রথম দিনেই অর্ণব মেঘলাকে বলেছিল—
— “তুমি কি জানো, তোমার চোখে আকাশ লুকিয়ে আছে?”
মেঘলা হেসে বলেছিল—
— “আকাশ সবাই দেখে, কিন্তু বুঝতে পারে কয়জন?”
সেদিন থেকেই শুরু।
🌸 ভালোবাসার দিনগুলো
কলেজের ক্যান্টিন, লাইব্রেরির নিরবতা, বৃষ্টিভেজা দুপুর—সব জায়গাতেই ছিল তাদের গল্প।
মেঘলা খুব সাধারণ স্বপ্ন দেখত—ছোট্ট একটা সংসার, মায়ের জন্য একটা শাড়ি, আর অর্ণবের হাত ধরে সারাজীবন হাঁটা।
অর্ণব বলত—
— “আমি বড় কিছু হতে চাই না, শুধু তোমার পাশে থাকতে চাই।”
কিন্তু জীবন কখনো গল্পের মতো সহজ হয় না।
অর্ণবের পরিবার ছিল খুব সাধারণ। বাবার ছোট চাকরি, সংসারের টানাটানি।
অন্যদিকে মেঘলার পরিবার ছিল বেশ স্বচ্ছল। তার বাবা চাইতেন মেঘলার বিয়ে হোক প্রতিষ্ঠিত কারও সাথে।
🌧️ ঝড়ের শুরু
একদিন হঠাৎ মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে বলল—
— “বাবা আমার জন্য পাত্র দেখছে…”
অর্ণব থমকে গেল।
— “তুমি কি চাও?”
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল—
— “আমি শুধু তোমাকেই চাই… কিন্তু আমি বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে যেতে পারবো না।”
সেই রাতটা ছিল অর্ণবের জীবনের সবচেয়ে লম্বা রাত।
সে ভাবছিল—ভালোবাসা কি শুধু দু’জনের হলেই হয়?
নাকি সমাজ, পরিবার, অর্থ—সবকিছুর অনুমতি লাগে?
💔 শেষ দেখা
মেঘলার বিয়ের আগের দিন তারা শেষবার দেখা করেছিল নদীর ধারে।
মেঘলার হাতে একটা চিঠি।
— “যদি কোনোদিন আমাকে খুব মনে পড়ে, এই চিঠিটা পড়বে।”
অর্ণব বলল—
— “তুমি কি একবারও ভাবলে না, আমি কিভাবে থাকবো?”
মেঘলা কাঁপা গলায় বলল—
— “তুমি শক্ত থাকবে। কারণ তুমি আমাকে সত্যিকারের ভালোবেসেছো… আর সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো অভিশাপ হয় না।”
তারপর মেঘলা চলে গেল।
চিরতরে।
📖 চিঠির শব্দ
বিয়ের এক সপ্তাহ পর অর্ণব সেই চিঠিটা খুলল।
চিঠিতে লেখা ছিল—
*"অর্ণব,
আমি তোমাকে হারাতে চাইনি। কিন্তু আমি চাই না তুমি আমার জন্য নিজের স্বপ্নগুলো ভেঙে ফেলো।
তুমি একদিন অনেক বড় হবে।
সেদিন হয়তো আমি দূর থেকে শুনবো—
‘অর্ণব আজ সফল।’
আমি তখন মনে মনে বলবো—
ও তো আমার ভালোবাসা ছিল…”*
চিঠির শেষ লাইনে লেখা—
"যদি অন্য কাউকে ভালোবাসো কোনোদিন, তাকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসবে। কারণ আমি চাই, তুমি সুখী হও।”
🌫️ বহু বছর পরে
পাঁচ বছর কেটে গেছে।
অর্ণব এখন একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ।
নিজের পরিশ্রমে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু নদীর পাড়ে গেলে আজও তার মনে পড়ে—
সাদা সালোয়ার, নরম হাসি, আর একটা মেয়ের বলা কথা—
"আকাশ সবাই দেখে, কিন্তু বুঝতে পারে কয়জন?"
অর্ণব বুঝেছিল।
কিন্তু ধরে রাখতে পারেনি।
একদিন হঠাৎ খবর পেল—মেঘলা খুব অসুস্থ।
অর্ণব ছুটে গেল।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মেঘলা খুব শুকিয়ে গেছে।
তবুও হাসলো—
— “দেখেছো? তুমি পারছো…”
অর্ণব চোখের জল লুকিয়ে বলল—
— “তুমি আমার সাথে থাকলে আরও ভালো লাগতো।”
মেঘলা ধীরে বলল—
— “সব ভালোবাসা একসাথে থাকার জন্য না… কিছু ভালোবাসা শুধু মনে রাখার জন্য।”
সেদিন রাতেই মেঘলা চলে গেল।
🌧️ শেষ দৃশ্য
আজও অর্ণব বিয়ে করেনি।
কারণ সে কাউকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি—যে জায়গাটা একবার ভরে গিয়েছিল, সেটা আবার নতুন করে ভরতে।
নদীর ধারে বসে সে মাঝে মাঝে বলে—
"ভালোবাসা কখনো মরে না।
মানুষ মরে, সময় বদলায়,
কিন্তু ভালোবাসা…
চিঠির পাতায়, স্মৃতির কোণে,
চিরকাল বেঁচে থাকে।”
💔 সমাপ্তি

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka