Al.Fatah
আরাকানের নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আর্তনাদ "হে বাংলার মুসলিম তোমরা কোথায়?" (মজলুমকে সাহায্য করা ঈমানী দায়িত্ব)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল কুরআন মহা গ্রন্থে মজলুমদের সবর করতে এবং মুসলমানদের তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে আদেশ করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ বরসিত হোক যিনি এই অন্ধকার পৃথিবীকে ইনসাফের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল কুরআন মহা গ্রন্থে ইরশাদ করেছেন-
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَ الْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا١ۚ وَ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا١ۙۚ وَّ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًاؕ
আমি একজন আরাকানের রোহিঙ্গা যুবক,আমাদের সম্প্রদায়ের উপর হওয়া এক একটি জুলুম আমি আমার নিজের চোখে দেখেছি।আমি ২০০১ সালে জন্ম নিয়ে শুনতে হয়েছে আমার মা বোনের উপর হওয়া প্রতিটি জুলুম নির্যাতন এবং আর্তনাদের চিৎকার।আমাদের মা-বোনদের উপর মায়ানমারের হানাদার বাহিনীরা যখন ইচ্ছা হয়েছে তখন রেপ এবং নির্যাতন করেছেন।তখন তারা নির্যাতনে অসহ্য হয়ে বলে উঠতো "কোথায় হে মুসলিম উম্মাহ?কোথায় হে বাংলার মুসলিম?"
আমার এখনো মনে পড়ে ৩ তারিখ জুন ২০১২ সালে হওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা।৩ তারিখ জুন ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য এক অন্ধকার পৃথিবী।কেননা সেই দিন আরাকানের টংগু নামক স্থানে নিরহ ৯ জন তাবলীগের সাথীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এভাবে শুরু হয় ২০১২ সালে গুজরাট দাঙ্গার মতো একটি বিরাট রোহিঙ্গা গণহত্যা।শুরু হয় জেলায় জেলায় মুসলমানদের রক্তঝরা,জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে দেয়া এবং শিশু কিশোর বৃদ্ধ রোহিঙ্গা যুবক বোনদের উপর রেপ নির্যাতন। এবং শুরু হয় রোহিঙ্গাদের ধন সম্পদ লুটপাট,মসজিদ-মাদ্রাসা ধ্বংসযজ্ঞ,ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া যত ধরনের নির্যাতন।এমনকি ২০১২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মসজিদ মাদ্রাসা সকল ধরনের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ কলেজ ভার্সিটিতে রোহিঙ্গাদের পড়ালেখার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।রোহিঙ্গাদের সর্বোচ্চ পদ সরকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগটাও বন্ধ করে দেয়া হয়।
আমি আরো স্বয়ং নিজের চোখে দেখেছি ২০১৪,২০১৬ এবং শেষবারের ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যা। সবচাইতে ভয়াবহ গণহত্যা ছিল ২০১৬ এবং ১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যা। শিশু-কিশোর বৃদ্ধ এবং নর-নারী হত্যা করা সহ ঘরবাড়ি বন্ধ করে জলন্ত আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। যুবকদেরকে যেখানে পাই সেখানে টুকরো টুকরো করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমার যুবতী মা বোনদের কে আমাদের সামনে রেপ করা হয়।বাপকে দিয়ে মেয়েকে ছেলেকে দিয়ে মাকে জোরপূর্বক রেপ করতে বাধ্য করা হয়।আমাদের ধন-সম্পদ জমিজমা সবকিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়। আটককৃত রোহিঙ্গা যুবক বোনদর সাথে তাদের তৃপ্তি মেটানোর পর প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়।আজ পর্যন্ত আটককৃত অনেক বোনদের ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এমন খবরও পাওয়া যায়। প্রত্যেকবার লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে হত্যা করা সহ হাজার হাজার মুসলমানদের জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এভাবে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরনার্থী হয়েছে।আবার শোনা যায় এই সরল মনের রোহিঙ্গাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারিরা তাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
হে বাংলার মুসলিম!হে বিশ্বের মুসলি! কোথায় তোমরা? তোমাদের মধ্যে কি কেউ নাই যারা এ আল্লাহর আয়াত কে স্মরণ করে।যারা আল্লাহর এই বাণীকে স্মরণ করে
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল কুরআন মহা গ্রন্থে ইরশাদ করেছেন-
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَ الْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا١ۚ وَ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا١ۙۚ وَّ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًاؕ
অনুবাদ:-তোমাদের কী হলো, তোমরা আল্লাহর পথে অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য লড়বে না, যারা দুর্বলতার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে? তারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিয়ে যাও, যার অধিবাসীরা জালেম এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের কোন বন্ধু, অভিভাবক ও সাহায্যকারী তৈরী করে দাও।(আন-নিসা,:আয়াত: ৭৫)
মুমিন মাত্রই একে অন্যের ভাই। এক মুমিন অপর মুমিনের মাঝে এমন ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকবে যে, পরস্পর একটি দেহের মতো মনে হবে। একজনের ক্ষতি আরেকজনকে ততটাই আহত করবে, যতটা মাথায় আঘাত পেলে তার সারা শরীর আহত হয়। বিপদ-মুসিবতের সময় একে অন্যের প্রতি আন্তরিকভাবে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। কোনো ভাই অসুস্থ বা আহত হলে কিংবা কোনো ক্ষতি বা বিপদের সম্মুখীন হলে অপর ভাই তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। কেউ কারও ইজ্জতহানি করতে বা কেউ তাকে অন্যায়ভাবে পরাজিত করতে চাইলে তার আশু সমাধান বা পক্ষাবলম্বন করা মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে এরশাদ করেন ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই’। (সুরা হুজরাত : ১০)। মহান আল্লাহ আরও এরশাদ করেন,ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক’। (সুরা তওবা : ৭১)
জালেমদের প্রতিরোধের ব্যাপারে আল্লাহপাক এরশাদ করেন- ‘তোমরা জালেম সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় তোমাদের সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ কর।’ (সুরা আনফাল : ৬০)। ইসলাম মজলুমের পক্ষাবলম্বন করেছে। মজলুম যদি অমুসলিমও হয়, তবুও তাকে সাহায্য করার তাগিদ দিয়েছে পবিত্র ধর্ম ইসলাম। হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন-‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।’ (বুখারি : ১৭৩২)। হজরত রাসুল (সা.) আরও বলেন- ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অপরের একটি প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে, পরকালে আল্লাহ তার ১০০ প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন এবং বান্দার দুঃখ-দুর্দশায় কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে আল্লাহ তার প্রতি করুণার দৃষ্টি দেন।’ (মুসলিম: ২৫৬৬)
ইসলাম সবসময় ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। হজরত নোমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- ‘সব মুমিন এক দেহের মতো। যখন তার চোখে যন্ত্রণা হয়, তখন তার গোটা শরীরই তা অনুভব করে। যদি তার মাথাব্যথা হয়, তাতে তার গোটা শরীরই বিচলিত হয়ে পড়ে।’ (মুসলিম : ২৫৮৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেন‘মুমিনরা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক দেহের মতো। দেহের কোনো অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হলে পুরো দেহ সে ব্যথা অনুভব করে।’ (বুখারি : ৬০১১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘আল্লাহপাক বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন, যতক্ষণ সে অপর ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম : ২৩১৪)। রাসুলুুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন :-তোমার ভাইকে সাহায্য কর। চাই সে জালেম হোক বা মজলুম। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) মজলুমের সাহায্যের বিষয়টি তো স্পষ্ট। কিন্তু জালেমকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বলেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ।এটাই তার প্রতি তোমার সাহায্য।
(বুখারি : ১৮৫৩)
এই বাংলার মুমিন আপনাদের ডাকছেন আরাকান। এবং রোহিঙ্গা মজলুম মুসলমান। এটাই হলো আপনাদের সৌভাগ্যের সময় শাহাদাতের মৃত্যু পাওয়ার সময়।আসুন আরাকানের পাসে দাঁড়ায়।
লেখক: ওসামা ইব্রাহিম
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Dhaka
ALFATAH90