Bijoy Hossain

Bijoy Hossain

Share

19/02/2023

হালাল শিক্ষণীয় নতুন গল্প!!!
হুজুর মিয়ার বউ:পর্ব (১৯)

প্রিয় জীবনসাথী,
আমি আপনার পরিবারকে বলে দিয়েছি যে
‘আমাদের ওয়াদা করা ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে যদি, উনাকে ছাড়াতে না পারি, তাহলে আপনারা ছাড়িয়ে নিবেন। এখন আমাকে চেষ্টা করার
সুযোগ দিন।'
আমার এই সিদ্ধান্তে যদি ভুল হয়ে থাকে এবং আপনার পরিবারের
মাধ্যমে মুক্ত হতে চান, তাহলে আমায় বলবেন, উনাদের জানিয়ে দিব। আর যদি আমার ভালবাসার পরিশ্রমে মুক্ত হতে চান, তাহলে একটু অপেক্ষা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমাদের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই
আপনাকে ছাড়িয়ে আনবো।
আর হ্যা,
আমি আর এখন আগের মতন ভয় পাইনা। ভয়কে জয় করে নিয়েছি। রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ের সাথে কবরস্থান, সেখানে বসে দূর আকাশে চেয়ে, আপনার কথা স্মরণ করি। বাড়ির চারপাশে তীর-ধনুক লাগিয়ে রেখেছি। কেউ আমার উপর আক্রমন করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হবে।
এইতো সেদিন,
এশার নামায আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে ব্যায়াম করছিলাম, এমনি সময় ঘরের ভেতরে ঘন্টা বেজে উঠল। বুঝতে পারলাম কেউ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাচ্ছে। সতর্কতা অবলম্বন করলাম। যখনি সেই ছেলেটি ঘরের পিছু হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে লাগল, ঠিক তখনি তীর গিয়ে তার বাহুতে বিধল। পরের দিন এলাকায় এই নিয়ে কত কথা... সেই একজনের কারণে সব ঠিক হয়ে গেল। এলাকার মহিলাদের থেকে শুনলাম- তারা কয়েকজন এক হয়ে এই কু'বুদ্ধি করেছিল যে- 'ইমাম সাহেব হুজুরের বউ অনেক সুন্দর, তাকে দেখতেই হবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তাদের আশা নিরাশায় পরিনত হল।
ঐ....যে
অনেক কথাই বলে ফেললাম।
আসল কথায় বলা হল না।
রাত গভীর হয়ে এসেছে। এখন আমাকে ব্যায়াম করার জন্য যেতে হবে। আগের চেয়ে আরো বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করার চেষ্টা করি। কারণ, আপনার আর আমার, দুজনের ব্যায়াম আমি একাই করি।
শুনেন,
আপনার ঐ মায়া ভরা দাড়ি, মন জুড়ানো চুল, মাথায় পাগড়ী পড়িয়ে দেয়া, বড্ড মিস করি। কেমন যেন মনে হয়, আপনার দাড়ির স্পর্শ না পেলে আমার ঘুমই আসেনা। আপনার ঐ চুলে হাত বুলাতে না পারলে, সুখ খুঁজে পাইনা। সত্যি, আপনি এবং আপনার সূরতকে অনেক অনেক অনেক মিস করি। বাড়ির প্রতিটা ইঞ্চি জুড়ে আপনার ভালবাসা লুকিয়ে আছে। যখনি ভাবি আপনি পাশে নেই, বুকের ভিতরটা হাহাকার করো উঠে। চোখ হতে অবিরত জল নেমে আসে। এখনো চোখের পানি টলমল করছে। চোখদুটো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। লিখতে পারছি না। কলম থমকে দাঁড়িয়েছে। খুব করো কান্না করার ইচ্ছে করছে। নাহ, আজ আর কিছু লিখতে পারব না।
তবে হ্যা,
আপনার জন্য কষ্ট আর অপেক্ষা করতে খারাপ নয়, ভালই লাগে। এরই নাম বুঝি ভালবাসা!
ইতি,
আপনার ভালবাসার অপেক্ষার প্রহরী মাহমুদা মীম।
2-6-19
মীম' চিঠি লিখা শেষে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেল।
মহিলা উকিলের শেষ শোনানিতে সবাই উপস্থিত হল। সেই মহিলা, ‘মীম'কে বাকি টাকা নিয়ে আসতে বলল। টাকাও আনা হল, কিন্তু নূরের ‘জামিন' হল না। এতে কাউসার ভীষণ রাগ করল। সে নূরকে লক্ষ করে বলল
“তোর বউকে বল, এই খেলা বন্ধ করতে। আমরা ভাল উকিল ধরে তোকে ছাড়িয়ে নিব।
নূরের হাতে হাতকড়া বাধা। সাথে পরিবারের সবাই এবং পুলিশও দাঁড়িয়ে আছে। নূর' কিছু সময় নিরব দাঁড়িয়ে থেকে সবার দিকে তাকিয়ে বলল
“বাবার দেয়া ছয় মাস শেষ হতে আর মাত্র দুই মাসের মত বাকি। এর মাঝে যদি 'মীম' তার নিজস্ব পরিশ্রমে আমাকে ছাড়াতে না পারে, তাহলে তোমরা ছাড়িয়ে নিও।
নূরের কথায় সকলেই নিশ্চুপ বনে গেল। কেউ কোনো কথা বলল না। পুলিশ নূরকে ভিতরে নিয়ে যেতে হাতকড়ায় টান দিল। নূর' পুলিশের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে, বউয়ের সাথে কয়েক মিনিট কথা বলতে চাইল। পুলিশ পাঁচ মিনিটের জন্য সময় দিল। নূর' মীমকে কাছে ডেকে বলল
“আমার মত হাজারো নির্দোষি জেলে পড়ে আছে। এখানে সবই টাকার খেলা। এতদিন জেলে থেকে যতটুকু বুঝলাম যে, সরকারের এই পার্শ্ব'টি চলে, নির্দোষীদের টাকায়। এখানে কোনো একটা উকিল, পুলিশ, জজ, কেউ টাকা ছাড়া পাতা নাড়ায় না। আজ আমাকে আদালতে দাঁড় করানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। যেখানে আমি বার বার বলেছি,
এগুলো সব মিথ্যা সাজানো গল্প। কে শুনে কার কথা! ওদের সাথে কথা বলা মানেই সময় অপচয় করা। তারাই দুই-চার কথা বলে, মামলা আটকিয়ে দিল। একটা উকিলও ভালভাবে কথা বলতে পারে না। ওখানে উকিল কথা বলেনা, কথা বলে টাকায়। তাই তোমাকে বলি, যা করবে ভেবে চিন্তে করবে।
মীম' কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল
“জানিনা বন্দি জেলখানা থেকে আপনাকে মুক্ত করতে পারব কিনা,
তবে আমার তরফ থেকে চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না।
নূর' মীমের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল “ধূর পাগলী কান্না করতে হয়না। আমি তো বেঁচে আছি। হয়ত বন্দি জীবন, কিন্তু মরে যাইনি। একবার চিন্তা করে দেখো, নির্যাতিত মুসলিম দেশগুলোর কথা! যেখানে মা-বোন ধর্ষিতা হচ্ছে দিনে রাতে! মায়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে সন্তানের। বিবাহিতা বউ রেখে চলে যেতে হচ্ছে জিহাদের ডাকে। সেখান থেকে আর কখনো ফিরতে পারেনি। তাদের আর দেখাও মেলেনি। যেই দেশের যুবকেরা বন্দি হয়ে জালিমের কারাগারে নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আদৌ তাদের মুক্তি মিলবে কিনা কেউ জানেনা। সেই মহান ব্যক্তিদের তুলনায় এখনো আমার তেমন কোনো পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হয়নি। যদি আমার হায়াত বাকি থাকে, তাহলে আজ না কাল, কিংবা কয়েক বছর পর হলেও মুক্তি পাব। আর সামান্য কারণে যদি তুমি এভাবে কান্না কর, তাহলে ভেঙে পড়বে। নিজের ভিতর সাহস রাখো, আল্লাহর উপর ভরসা করো, তোমার সব কাজ সহজ হয়ে যাবে। আর কথা বলা যাবে না। আমার ডান পকেটে তোমার জন্য একটা চিঠি লিখেছি, দিয়ে নিয়ে যাও।
মীমা নূরের পকেট থেকে চিঠি নেয়ার সময় তার পত্রটি সেখানে রেখে ।। নূরের থেকে বিদায় নিয়ে 'মীম' অনলাইনে যোগাযোগ করা একজন দিল। নামীদামি উকিলের সাথে তার ভাইকে নিয়ে দেখা করল। সেই উকিল বাকিদের মত এত কথা বলেনি, তবে অন্যদের থেকে টাকা চেয়েছে বেশি। অবশেষে চার লাখ টাকায় রাজি হল। উকিল সরাসরিই মীমকে বলল
"আপনার থেকে আমি চার লাখ টাকা নিয়ে জজ'কে দিতে হবে এক দেড় লাখ, বিপরিত উকিলদের দিতে হবে কিছু, আরো অনেককেই দিতে হবে। অবশেষে আমার একেবারেই কম থাকবে।
মীম' উকিলের টেবিলে ব্যাগটা রেখে বলল “এটা তো অনেক বড় অন্যায়। আমি আপনার সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করেই এসেছি। টাকা দেয়া ছাড়া কি কোনো পন্থা নেই?
তা'ছাড়া উনার ব্যাপারে কোনো প্রমানও নেই।
উকিল মুচকি হেসে বলল
“প্রথমত এই ‘জঙ্গি মামলা’ ভাল কোনো উকিল নিতে চাইবে না। কেননা এর বিপরিত সরকারি উকিল দাঁড়িয়ে যাবে। আর বাকি যত আবোলতাবোল উকিল রয়েছে, তারা টাকা খাবে ঠিকই, কিন্তু মুক্ত করাতে পারবে না। বিশ্বাস না হয়, আরো দশজন উকিল ধরে দেখতে পারেন সর্বশেষ ফল কি হয়। আমি শুধু আপনাকে এই কারণে বলেছি যে, আপনি যখন আপনার ব্যাপারে সব বললেন, তখন মনে হল, আমারো একটা মেয়ে মহিলা মাদরাসায় পড়ে। তাই আপনাকে আসতে বললাম। এখন আপনিই চিন্তা করে দেখেন, কী করা যায়। কেননা এই জঙ্গি মামলার কোনো প্রমাণ লাগেনা। কেউ যদি জঙ্গি বলে কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, সে পুরস্কার পায় এবং যেই পুলিশ ধরে নিয়ে আসে, সেও পুরুষ্কার পায়। তাই এখানে কোনো প্রামাণের দরকার হয় না। এখন যদি প্রমাণের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে বের করতে চান, তাহলে কয়েক যুগ কেটে যাবে এবং লাখ লাখ টাকা খরচা হবে, তবুও সঠিক বিচার পাবেন কিনা জানা নেই। বর্তমানে কোর্ডে, মক্কেল হাজির করা মানেই, এই বিভাগের সবাই তার থেকে টাকা খাওয়া। এখন ভেবে দেখেন, কী করবেন? আমার কাছে রাস্তা একটাই, আমায় টাকা দিলে, সেই টাকা বাকিদের দিয়ে মামলা উঠিয়েদিতে পারবা মীম' ব্যাগ থেকে তার দেনমহরের তিন লাখ টাকা উকিলের সামনে রেখে বলল
“এখানে তিন লাখ টাকা আছে, তবে আমারো একটা আবদার।
“কিসের আবদার?
মীমা তার ভাইয়ের মোবাইল বের করে একাউন্টের টাকা দেখাতে বলল। তার ভাই উকিলকে বিশ লাখের মত টাকা দেখালো। তারপর তার ভাইকে বলল- 'ব্যাংকের চেক বই বের করে, চার লাখ টাকার একটি চেক, সবকিছু 'ওকে' করে, শুধু দস্তখত বাদে উনার হাতে তুলে দাও। আর এই তিন লাখ তুমি নিয়ে নাও।' মীমের ভাই তাই করল।
মীম' উকিলের হাতে চেকটি ধরিয়ে দিয়ে বলল “এই চেকটি আপনার বিশ্বাসের জন্য দিলাম। আপনি যেদিন উনাকে ছাড়াতে পারবেন, সেই দিনই কোর্টের বাহিরে নগদ চার লাখ পেয়ে যাবেন। কিন্তু অগ্রিম কিছু দিতে পারব না। এখন আপনিই বলেন, কী
করবেন?
উকিল মুচকি হেসে বলল
“আপনার সাথে কথা না বললে হয়ত বুঝতেই পারতামনা যে, মাদরাসায় মেয়েরাও এত টেলেন্টপুল হয়!
“পরিস্থিতি এমন করেছে স্যার।
“বুঝতে পেরেছি। সমস্যা নেই। আশাকরি অচিরেই সু'সংবাদ শুনতে
পারবেন।
“আল্লাহ কবুল করুন। (আমীন)
মীম তার ভাইকে বিদায় জানিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করতে যাবে, তখন ভাই বলল
“বেলা অনেক হয়েছে। আজ না হয় আমাদের বাসায় চল?
মীম' দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল "ইচ্ছে তো করেই যেতে, কিন্তু কোনো উপায় নেই। বাড়িতে অনেকগুলো হাস-মুরগী রেখে এসেছি, সেগুলো দেখাশোনা করতে হবে। তাছাড়া ঊনার জন্য কষ্ট করতেও কেমন যেন ভাল লাগে। প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে ঊনার কথা মনে পড়ে। বাড়ির চারপাশে ঊনার স্মৃতি ভাসে। তাই উনার ভালবাসার ঘর ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকতে পারব না। তাছাড়া বিকালের ট্রেনের টিকেট, আসার সময় ক্রয় করে রেখেছি, যেতে সমস্যা হবে না।
মীমের ভাই কিছু সময় নিরব থেকে বলল
“সত্যি আজ আমার গর্ব হয় তোর মত বোন পেয়েছি বলে। দু'আ করি প্রতিটা বোন যেন তোর মত হতে পারে।
মীম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল
“আমীন, আল্লাহ কবুল করুন। এবার কমলাপুর পর্যন্ত আমার সাথে চলো, গল্প করতে করতে যাওয়া যাক।
“চল, আমার গাড়ীতে উঠ।
দুই ভাই-বোন কমলাপুর স্টেশনে আসল। মীমকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে তার ভাই বাসায় চলে গেল। মীমের বাড়ী পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। বাড়িতে প্রবেশ করে দেখে এলাকার কয়েকজন মহিলা তার সব কাজ গুছিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করছে। মীমকে দেখা মাত্রই সবাই দাঁড়িয়ে গেল। জানতে চাইল ‘নূর' কেন আসেনি? মীম ব্যর্থতার চাহনিতে জানালো, এখনো মুক্তি পায়নি। হয়ত আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
মীম' তাদের বিদায় জানিয়ে হারিকেনের আলোয় বসে নূরের দেয়া চিঠি পড়তে লাগলো। সেই চিঠিতে লিখা ছিল হুজুর মিয়ার চিঠি,
হুজুরনির হাতে।
দ্বিতীয় পত্রের শুরুতেই কৃতজ্ঞতা আদায় করি সেই মহান রবের দরবারে, যিনি আমাদের ভালবাসায় আবদ্ধ রেখেছেন, এবং জালিমের কারাগারে
থেকেও তাহার গোলামী করার সুযোগ দিয়েছেন।
সালাম নিতে ভুল করোনা যেন প্রিয়তমা। নিশ্চয় তোমার মনটা আজও ভাল। কেননা খানিক আগেই আমাদের দেখা মিলেছে। তারউপর আকাশে চাঁদ মামা তার পূর্ণ যৌবন দুনিয়ার বুকে মেলে ধরেছে। আর জোৎস্না মাখা রাত বিধাতার দেয়া তোমার-আমার সেরা উপহার।
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদীসের কথা অবশ্যই তোমার মনে পড়েছে। 'যখন রাসূল সাঃ আম্মাজান আয়েশা রাঃ কে নিয়ে, চাঁদের আলোয় খেলা করতেন!'
সাথে আমাদের স্মৃতিময় চাঁদনি রাতের কোথাও ভুল না যেন!
আমাদের কথা বলতেই লজ্জা পেয়েছো, তাই না? আবার হাসিও পাচ্ছে ঐ দেখো, নিচের ঠোটের ডান পাশ নাড়িয়ে দুই দাঁতের মাঝে কামড়ে ধরে আছে !
থাক্' আর লজ্জা পেতে হবেনা। ঠোট কেটে যাবে। স্বাভাবিক হয়ে চিঠি
পড়।
শোনো,
এই জ্যোৎস্নালোকিত নিশিতে যদি থাকতাম তোমার পাশেতে, তোমায় নিয়ে হারিয়ে যেতাম,
‘আইলি বিলে'’র পাড়ে'তে। তোমার কাঁদে হাত রেখে, দেখাতাম চেয়ে থেকে,
নদীর বুকে চন্দ্রকিরণ
কেমনে তারা খেলা করে!
মনে হত যেন, পানির উপর কেহ মুক্তা ছড়িয়ে দিয়েছে!
অবশ্য তোমার কাছেই তাহা ভালো লাগতো, আমার কাছে নহে।
কেননা আমার ভাললাগা, তোমার ভালবাসায় মিশে আছে।
আজ আমি নেই তোমার পাশে, তাই ভাবতে হবেনা আলোকময় রাত নিয়ে। রাতের খাবার খেয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে চেয়ে দেখো অপরূপ ঐ চাঁদ হাসছে। এখন আমি চাঁদের পানে তাকিয়ে আছি। তোমাকে বড্ড মিস করছি। কিন্তু এই ভেবে শান্তি পাচ্ছি। তুমি আর আর আমি একই সময়ে, চাঁদের পানে চেয়ে আছি। হোকনা আমি বন্দি কারাগারে, তারপরও তোমার ভালবাসা উকি দেয় এই হৃদয়ে বারে বারে। ভেবোনা আমি দূরে কোথাও হারিয়ে গেছি, এই কথাটাই মনে রেখো, আমি তোমার সাথেই আছি।
ঐ দেখো, চাঁদের পাশে দুটো তারকা খেলা করছে, সেখানেই আমরা রয়েছি। যখনি আমার কথা খুব মনে পড়বে, তখনি মনের মাঝে এই ভাবনায় কথা বলবে যে দু'জনে একই আকাশের নিচে চাঁদের সাথে তারকা হয়ে ঘুরে ফিরছি।
মনে পড়ে তোমার সেই জ্যোৎস্নাময় রাতের কথা! যে-রাতে তরবারি হাতে ‘কারাতে’ প্রশিক্ষণ করছিলাম। তখন বলেছিলে তুমি ‘আমাকেও আত্মরক্ষার কলাকৌশল শিখিয়ে দিন।'
আমি দুই গাল হেসে বলেছিলাম- 'দুটো ইট হাতে নিয়ে পাঁচ মিনিট দৌড়ে আসো। তুমি দুই মিনিট দৌড়ে এসে বলেছিলে- এগুলো এতো ভারি কেন?
তোমার কথায় হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম। আমার হাসিতে তুমি রাগ করেছিলে। তোমার সেই রাগ-মাখা মুখটি এখনো আমার চোখে ভাসছে আর আমিও হাসছি। নিশ্চয় তুমিও হাসছো?
এত হাসি ভাল না।
এখন ঘুমিয়ে পড়, আবার শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামায আদার করতে হবে তো!
আর শুনো,
আমি পাগলের চিঠি বারবার পড়োনা, তাহলে হয়তো প্রতিবারই নতুন করে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করবে। তোমার এত প্রেম আমি রাখব কেমন
করে?
এই যে!
আরেকটা কথা বলাই হয়নি। কথাটি হল, তোমাকে 'জাযাকাল্লাহ । কেননা এখন তুমি অনেক ভাল 'ফাইট' করতে পার। নিজের আত্মরক্ষার কৌশল শিখে নিয়েছো।
শেষ কথাটা শুনে যাও। ‘তোমাকে ভালবাসি' বলাই হয়নি। পরবর্তি চিঠির অপেক্ষায় থেকো। ইতি;
তোমার প্রেমময় জীবনসাথী।
6-6-19
মীম' কয়েকবার পত্রটি পড়ে, চুমু খেয়ে মাটির কলসিতে ভরে রাখল। জানালা দিয়ে ঘরে আসা চাঁদের আলোয় তাকিয়ে থেকে নূরের কথা ভাবতে লাগল।
নূর বেশ কিছু সময় চাঁদের দিকে তাকিয়ে থেকে পায়জামার পকেটে
হাত রাখল। কাগজের মত কিছু একটা মনে হল। তারমানে কি 'মীম'
পত্রটি গ্রহণ করেনি! নূর' তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে কাগজটি বের
করল। কিন্তু না, এতো আমার লেখা কাগজের মত লাগছে না! তাহলে কি
মীম'ও আমায় চিঠি লিখেছে!?
নূর' চিঠি হাতে লাইটের আলোয় বসল। তার কাছে মনে হচ্ছে, পত্রটির ভাঁজ খুলছে আর বুকের ভিতরে অন্য রকম এক সুখ অনুভব হচ্ছে। নূর' পত্রটি খুলে বেশ কয়েকবার পড়ল। তার ইচ্ছে হল- ‘ইশ্ এখন যদি পাখি হয়ে মীমের কাছে গিয়ে কপালে একটা চুমু দিতে পারতাম!' ভাবতে ভাবতে চিঠিখানা বুকে রেখেই ঘুমিয়ে গেল।
এভাবেই তারা একে অপরকে চিঠি লিখে খাতার পাতা ভরে। শুধু নূর আর মীমই জানে, চিঠি লেখার মাঝে কতটা প্রেম লুকিয়ে থাকে।
এরই মাঝে হঠাৎই একদিন বড্ড দুপুরে সেই উকিল মীমের নাম্বারে কল দিয়ে বলল
“আগামীকাল সকাল দশটায় নূরের জামিন হবে, আপনারা উপস্থিত থাকবেন------
চলবে ইনশাআল্লাহ-------
বিঃদ্রঃ ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ 🙏
আর অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন গল্প গুলো কেমন হয়েছে ___________ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে শেষ করে দিব।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Culinary Team

Attire

Address

Dhaka