Learn with Tonis
১. গোপনীয়তা তোমার সুপার পাওয়ার। অন্যরা যা জানে না, তা নষ্টও করতে পারে না। নিজের জীবন গোপন রাখো—মানুষ নাটক ভালোবাসে।
২. একাকীত্ব যাত্রার অংশ। একে আলিঙ্গন করো; এটা নিজেই এক ধরনের শিল্প।
৩. মনে রেখো, সব কিছুই অস্থায়ী। জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই মাটিতে পা রাখো ও নম্র থেকো।
৪. প্রত্যেকেই লড়াই করছে, যা তুমি জানো না। দয়া দেখাও; এতে কিছু খরচ হয় না।
৫. তোমার সঙ্গী তোমার প্রতিচ্ছবি। বেছে নিও বুঝে শুনে। তার মান ও মুল্যবোধ দেখো যেমন বাহ্যিক সৌন্দর্য।
৬. তোমার মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে কারো অনুভূতি বড় নয়। এখানে একটু স্বার্থপর হও—এটা জরুরি।
৭. তোমার বেশি সময় নয়, কম বিভ্রান্তি দরকার। মনোযোগই সফলতার চাবিকাঠি।
৮. তোমার সময়কে আগলে রাখো। সবাই তার যোগ্য নয়।
৯. তাদের সঙ্গে থাকো যারা তোমার প্রকৃত মূল্য বোঝে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জন্য কখনো অনুরোধ করা উচিত নয়।
১০. নিজেকে ভালোবাসা স্বার্থপরতা নয়; এটা প্রয়োজন।
১১. যারা তোমার বোঝা হালকা করে, তাদের মূল্য দাও। তারা বিরল রত্ন।
১২. তোমার আশেপাশের মানুষ বেছে নাও সচেতনভাবে। সঠিক লোক তোমায় উন্নত করে; ভুল লোক টেনে ধরে।
১৩. মানসিক শান্তি অমূল্য। যেভাবেই হোক, একে রক্ষা করো।
১৪. ভালোবাসাকে খুঁজো না; নিজের জীবন উপভোগ করো। সঠিক মানুষ নিজেই আসবে।
১৫. তাদের খুঁজো যারা "একসাথে বড় হওয়ার" মানসিকতা রাখে। একে অপরকে উঁচুতে তোলো।
১৬. অনুশোচনা নয়—শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলো। ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াও।
১৭. তাকে খুঁজো, যে গর্বের সঙ্গে তোমার পাশে দাঁড়াবে।
১৮. কখনো হার মানো না। সবার জীবনেই কঠিন সময় আসে; নিজেকে গুছিয়ে আবার শুরু করো।
১৯. ক্লান্ত লাগলে পেছনে সরে বিশ্রাম নাও—কিন্তু ছেড়ে দিও না।
২০. কখনো কখনো হারিয়ে যেতে হয়, শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার জন্য।
২১. অন্যদের সাফল্য থেকে শেখো, তাদের ভুল থেকেও জ্ঞান অর্জন করো।
২২. খুশি থাকতে চাও? তাহলে কাউকে কিছু পাওনা ভেবে আশা কোরো না।
২৩. সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে এক সময়। আশাবাদী থাকো।
২৪. চেষ্টা চালিয়ে যাও—সাফল্য আসছে।
২৫. পারস্পরিক চেষ্টার চেয়ে আকর্ষণীয় কিছু নেই।
২৬. যেখানে তুমি মূল্য পাচ্ছো না, সেখানে চিন্তা বন্ধ করো।
২৭. কেউ সাহায্য না করলে নিজেই শুরু করো। অভিযোগ করে কিছুই হবে না।
২৮. নিজের উন্নয়নে মনোযোগ দাও। এটা সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ।
২৯. একটা খোলামেলা কথাবার্তা কখনো দ্বন্দ্বে শেষ হওয়া উচিত নয়। এটা পবিত্র।
৩০. “আগামীকাল করব” হচ্ছে আসলে টালবাহানা।
৩১. একই রকম না থেকে আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করো।
৩২. কখনো কখনো অপেক্ষা করাই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত।
৩৩. সবাই তোমার যাত্রা বুঝবে না, এবং সেটা ঠিক আছে।
৩৪. নিজেকে সারাও, যাতে তুমি অতীতের আঘাতের প্রতিচ্ছবি না হও।
৩৫. তোমার গণ্ডি ছোট রাখো, বন্ধু হোক জ্ঞানী।
৩৬. যদি কেউ সাময়িক হয়, তাকে স্থায়ীভাবে বিদায় দাও।
৩৭. মানুষ আসবে, যাবে; একা দাঁড়াতে শেখো।
৩৮. প্রয়োজন হলে নিজেকে সময় দাও, হারিয়ে যাও—নিজেকে গুছিয়ে নাও।
৩৯. তোমার স্বাধীনতাকে কেউ কেউ সহ্য করবে না। সেটা তাদের সমস্যা।
৪০. অন্যকে প্রমাণ করার চেয়ে নিজের উন্নয়নে মনোযোগ দাও।
৪১. যা একবার তোমায় ভেঙে দিয়েছে, সেখানে আর কখনো ফিরে যেও না।
চালিয়ে যাও, থেমো না!
22/04/2025
আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস শহরের ব্যস্ত এক পাড়ায়, ১৯৩৬ সালের শীতল ডিসেম্বরে জন্ম নেয় এক ছেলেশিশু। নাম রাখা হয় জর্জ মারিও বার্গোলিও। ইতালীয় বংশোদ্ভূত এই ছেলেটি বড় হচ্ছিল এক অনাড়ম্বর পরিবারে—বাবা ছিলেন রেলওয়ের হিসাবরক্ষক, আর মা ঘর সামলাতেন, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে জর্জ ছিল একেবারে মাঝামাঝি।
ছেলেটির চোখে ছিল এক ধরনের গভীরতা, যেন সে চুপচাপ থাকলেও কিছু বলে যায়। খেলাধুলায় খুব উৎসাহী ছিল না, কিন্তু বইয়ের পাতায় হারিয়ে যেতে পারত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার ছোটবেলার বন্ধুরা বলত—"ওর চোখে আলো আছে, কিন্তু ওর স্বপ্ন আমাদের চেয়ে আলাদা!"
জর্জ বড় হতে লাগল। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করল, রসায়নে ডিপ্লোমা করল। একটা ল্যাবরেটরিতেও কাজ শুরু করল। কিন্তু তার মনে তখনও একটা ঘর আলো করে বসে ছিল, যেটা অন্য কোথাও... অন্য কোনো ডাক। সেই ডাকটা এসেছিল একদিন এক অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। ২১ বছরের তরুণ জর্জ তখন ঠিক করল, সে পেছনের দরজায় নয়, সামনের পথেই ঈশ্বরের ঘরে ঢুকবে।
সে যাত্রা শুরু করল Jesuit Order, অর্থাৎ যিশুর সোসাইটিতে যোগ দিয়ে। একে একে সে হয়ে উঠল একজন যাজক, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ—আরো বড় দায়িত্ব এল, কিন্তু কখনোই সে ভুলল না কীভাবে সাধারণ মানুষ বাঁচে। কারো ঘরে ভাত নেই, কারো শরীরে রোগ, কেউবা ঘুমায় রাস্তায়—এইসব মানুষের মাঝেই সে খুঁজে পেত যীশুর মুখ।
১৯৯৮ সালে, অনেক বাধা পেরিয়ে, সে হল বুয়েনোস আইরেসের আর্চবিশপ। এই শহরেই সে জন্মেছিল, আর এখন সে হয়ে উঠল সেই শহরের আধ্যাত্মিক অভিভাবক। কিন্তু এখানেও তার জীবন ছিল সাধারণ—নিজের অ্যাপার্টমেন্টে থাকত, নিজে রান্না করত, বাসে-ট্রামে যাতায়াত করত।
২০০১ সালে, এক আন্তর্জাতিক সভায়, ভ্যাটিকানের পোপ জন পল দ্বিতীয় তার গলায় পরিয়ে দিলেন লাল টুপি—সে হয়ে উঠল কার্ডিনাল বার্গোলিও। কিন্তু গলায় টুপি এলেও তার হৃদয়ের পোশাক পাল্টাল না।
এরপর আসে সেই ঐতিহাসিক দিন।
২০১৩ সালের এক বসন্তদিনে, ভ্যাটিকানের আকাশে ধোঁয়া ওঠে—সাদা ধোঁয়া। মানে, পোপ নির্বাচন শেষ। ১১৫ জন কার্ডিনালের ভোটে, নির্বাচিত হলেন এক মানুষ—যিনি কখনো ভ্যাটিকানের চৌকাঠে নিজের নাম কল্পনাও করেননি।
সেই মানুষটি হলেন জর্জ মারিও বার্গোলিও।
তিনি নিজের জন্য বেছে নিলেন এক নাম—"ফ্রান্সিস", সেন্ট ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসির নামে, যিনি দারিদ্র্য, শান্তি, প্রকৃতি আর সেবার প্রতীক।
এভাবেই জর্জ থেকে ফ্রান্সিস হলেন।
একজন পোপ, যিনি বলতেন—
"গির্জা শুধু গির্জায় থাকবে না, রাস্তায় নামবে। পাদ্রীদের গায়ের গন্ধ হোক ভেড়া রাখালের মতো।"
একজন পোপ, যিনি নিজের ঝকঝকে প্রাসাদে নয়, থাকতেন ডোমুস সান্তা মার্থার সাধারণ কক্ষে।
একজন পোপ, যিনি বলতেন— “আমি কে, কাউকে বিচার করার?”
এ কাহিনি শুধুই একজন ধর্মীয় নেতার নয়, এ এক মানবিক বিপ্লবের গল্প। যে মানুষটা বোঝাত, দয়া, নম্রতা আর সেবা—এগুলো শুধু ধর্ম নয়, এটাই জীবন।
২০১৩ সালের ১৩ মার্চ।
ভ্যাটিকানের সেই প্রাচীন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এক নতুন পোপ বললেন—
“ভাইয়েরা ও বোনেরা, শুভ সন্ধ্যা।”
না, কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ঘোষণা নয়, গলার টানেও রাজকীয় অহংকার ছিল না। বরং ছিল এক গরম চায়ের মতো উষ্ণতা।
এই ছিলেন পোপ ফ্রান্সিস—যিনি শুরুতেই বোঝালেন, তিনি শাসক নন, সহযাত্রী।
তিনি বললেন, গির্জা শুধু অলংকারে মোড়া প্রাসাদ হবে না, দরজা খুলে রাস্তায় নামবে। তিনি জোর দিলেন দরিদ্রতা ও বৈষম্য দূর করার উপর।
বললেন— “একটা সমাজ যেখানে টাকা ঈশ্বর হয়ে দাঁড়ায়, সেটা অসুস্থ সমাজ।”
ক্যাথলিক চার্চকে বললেন, “গর্ভপাত, সমকামিতা, বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কম কথা বলো। বরং কথা বলো দয়া, সহানুভূতি, আশ্রয় নিয়ে।”
এটাই ছিল একটা মোলায়েম বিপ্লব। কেউ কেউ এতে অস্বস্তি বোধ করল, বিশ্বজুড়ে কানাঘুষাও হলো, কিন্তু বহু মানুষ প্রথমবারের মতো গির্জার কাছে ফিরে এল।
পোপ ফ্রান্সিস ভ্যাটিকানের বিলাসবহুল পোপাল অ্যাপার্টমেন্টে থাকেননি। বরং ডোমুস সান্তা মার্থা নামে এক সাধারণ অতিথিশালায় থাকতেন। সেই ঘরে ছিল না সোনা-মুনার ছোঁয়া, ছিল সাধারণতা। গাড়িও বদলে ফেললেন—জমকালো মার্সিডিজ বেঞ্জ নয়, একটা ফিয়াট ৫০০ তে চড়ে বের হতেন।
একবার এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি পোপ হয়ে কী পরিবর্তন এনেছেন?”
তিনি হেসে বলেছিলেন, “জুতো। এখন লাল জুতো পরে থাকতে হয় না!”
২০১৩ সালেই, তিনি এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বলেছিলেন—
"If a person is gay and seeks God and has goodwill, who am I to judge?"
এই একটা লাইন যেন ছড়িয়ে গেল বিশ্বজুড়ে।
এতদিন ক্যাথলিক চার্চে যেখানে ‘সমকামিতা’ এক নিষিদ্ধ শব্দ ছিল, সেখানে এক পোপ নিজে দাঁড়ালেন এর সহানুভূতির পক্ষে!! এই বিষয়ে বিতর্কও কম হয়নি অবশ্য
২০১৫ সালে, পোপ ফ্রান্সিস বিশ্ববাসীকে চমকে দিলেন তাঁর বিখ্যাত পরিবেশবিষয়ক এনসাইক্লিক্যাল (প্যাপাল চিঠি) Laudato Si’ প্রকাশ করে।
সেখানে তিনি বললেন— “পৃথিবী আমাদের সবার মা, আমরা তাকে বিষ দিচ্ছি।” 'জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বৈজ্ঞানিক বা রাজনৈতিক নয়, নৈতিক বিষয়।"
এই বক্তব্য তাঁকে পরিবেশ আন্দোলনের মুখ করে তুলল।
তিনি শুধু ধর্মগুরু ছিলেন না, ছিলেন এক রাজনৈতিক বিবেক।
তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘর্ষে উভয়পক্ষকে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন।
পোপ ফ্রান্সিস ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের সময় মানবিক উদ্বেগ ও শান্তির আহ্বান জানিয়ে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি গাজার পরিস্থিতিকে "নিষ্ঠুরতা" ও "সন্ত্রাসবাদ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে, পোপ ফ্রান্সিস বলেন, “এটি যুদ্ধ নয়, এটি সন্ত্রাসবাদ।” তিনি উভয় পক্ষের পরিবারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের কষ্টের কথা শুনে এই মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, পোপ ফ্রান্সিস গাজায় শিশুদের উপর বোমা হামলাকে "নিষ্ঠুরতা" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, "এটি যুদ্ধ নয়, এটি নিষ্ঠুরতা।"
পোপ ফ্রান্সিস হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানান এবং গাজার মানবিক সংকটের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধ নয়, শান্তি দরকার—একটি শান্তি যা ন্যায়বিচার, সংলাপ এবং ভ্রাতৃত্বের সাহসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।"
পোপ ফ্রান্সিসের এই মন্তব্যগুলো কিছু ইহুদি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। তারা বলেন, পোপের বক্তব্য ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে উপেক্ষা করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব প্রদর্শন করে। তারা পোপকে "উস্কানিমূলক মন্তব্য" থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। যদিও পোপ তা কানে তোলেন নি।
২০২৫ সালের ইস্টার সানডেতে, পোপ ফ্রান্সিস গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গাজার মানবিক সংকট এবং বাড়তে থাকা ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এইসব বক্তব্যে পোপ ফ্রান্সিস মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় পক্ষের কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রসঙ্গে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে বলেছিলেন— “রোহিঙ্গারা ঈশ্বরের সন্তান। তাদের নাম উচ্চারণে যদি ভয় হয়, তাহলে আমাদের বিশ্বাস দুর্বল।
২০২০ সালে যখন পুরো পৃথিবী করোনার থাবায় ঘরে ঢুকে গেছে, তখন তিনি একা দাঁড়িয়েছিলেন ভ্যাটিকানের সেই খালি চত্বরে, বৃষ্টিতে ভিজে, প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে।
তার সেই একাকী ছবি বিশ্ব ব্যাপী হয়ে উঠেছিল আশার প্রতীক।
পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন সেই নেতা,
যিনি বলতেন, "গির্জার দরজা যেন লকড ডোর না হয়।"
যিনি নিজের জন্মদিনে গরিবদের সঙ্গে খেতে বসতেন।
যিনি সারা জীবনে একবারও ঈশ্বরের নাম নিয়ে কাউকে অভিশাপ দেননি।
শেষের দিকে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ছিল। হাঁটা হয়ে উঠছিল কষ্টের, বাতের ব্যথা, ফুসফুসের জটিলতা।
তবু তিনি প্রতিদিন লোকের হাতে হাত রাখতেন, চুমু খেতেন শিশুদের কপালে।
“আমার মৃত্যুর পর, লোকেরা যদি বলে—এই মানুষটা চেষ্টা করেছিল ভালো কিছু করতে, তাহলেই আমি ধন্য।”
এভাবেই ফ্রান্সিস হয়ে উঠলেন শুধু এক পোপ নয়,
এক সময়ের বিবেক। এক মানবিক বিপ্লবী।
হ্যাঁ পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন এক মানবিক বিপ্লবী। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, একজন ধর্মীয় নেতা কেবল ধর্মের সীমানা অতিক্রম করে মানবতার সেবায় থাকতে পারেন। পোপ ফ্রান্সিসের আসনে বসে থাকা এই মানুষটি কখনো সোনালী অভিজ্ঞান চেয়েছিলেন না, চেয়েছিলেন জীবনকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতে।
শেষ পর্যন্ত, আজ ৮৮ বছর বয়সে ভ্যাটিকান সিটিতে তাঁর বাসভবন ডোমুস সান্তা মার্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম লাতিন আমেরিকান পোপ এবং ২০১৩ সাল থেকে ১২ বছর ধরে ক্যাথলিক চার্চের নেতৃত্ব দেয়া "পোপ ফ্রান্সিস' যুগের চির অবসান ঘটেছে সত্য, কিন্তু তাঁর কাজ, জীবন, এবং আদর্শ " সহানুভূতিশীল ও মানবিক" বিশ্বকে ঠিকই এক আলোর রোশনি দিয়ে রেখেছে।
"তুমি যদি ভালোবাসো, তুমি কখনও একা নও।”
– পোপ ফ্রান্সিস
এভাবেই তার জীবন এবং বিশ্বাস চিরকাল অমর থাকবে।
বিদায়, বিদায়, বিদায়।
Click here to claim your Sponsored Listing.