Dohar Multimedia
25/07/2022
ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন নারিশা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর মুয়াজ্জিন হাফেজ নাঈমকে বেধড়ক ভাবে মারধর করে নিখোঁজ করা হয়েছে এবং মসজিদের ইমাম ও খতিবের সাথে ধাক্কা ধাক্কি ও হুমকির তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে এই নিকৃষ্ট কাজের সঠিক বিচার চাই।
#ঘটনা:
হাফেজ মো: নাইম হোসাইন নারিশা বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের দ্বায়িত্বে আছে। সেই সুবাদে মসজিদ মার্কেটের ঔষধ ব্যবসায়ী মো: ফিরুজ হোসাইনের ভাগিনা হিমুর সাথে চেনাজানা।
৩ দিন আগে সকাল ১০ টার সময় কোন এক কাজে হিমুর মটর সাইকেল টি চেয়ে নিয়ে যায় মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো: নাইম হোসাইন। কাজ শেষ করে ফিরতে একটু লেট হয় মুয়াজ্জিন সাহেবের। সে সময় হিমু মুয়াজ্জিন কে কয়েক বার ফোন দিয়ে ফোনে পাননি।
দুপুর ১২ঃ৩০ মিনিটে মটর সাইকেল নিয়ে মুয়াজ্জিন সাহেব আসার সাথে সাথে হিমু তাকে বেধড়ক ভাবে মারতে শুরু করে মসজিদের মাঠে।
এই অবস্থা দেখে মাদ্রাসার ছাত্ররা এক জন শিক্ষক কে জানায়।
শিক্ষক এসে দেখে মুয়াজ্জিন সাহেবকে বাশ দিয়ে বেধড়ক ভাবে পেটাচ্ছে আর মুয়াজ্জিন সাহেব মাটিতে গড়াগড়ি করে হিমুর পা ধরে মাফ চাচ্ছে আর ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করছে।
মারতে মারতে বাশ টি যখন ভেঙ্গে যায় তখন হিমু একটি কাঠের ফালি নেয় পিটানোর জন্য।
ঐ সময় মাদ্রাসার একজন শিক্ষক হিমুর কাছে গিয়ে মুয়াজ্জিন সাহেবকে হিমুর হাত থেকে ছাড়িয়ে দেয় এবং মুয়াজ্জিন সাহেব অজু খানায় গিয়ে পালায় হিমুর হাত থেক বাচার জন্য।
এতেই শান্ত হয়নি হিমু।
মুয়াজ্জিন সাহেবকে আরো পিটানোর জন্য মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ইমাম সাহেবের রুমে তান্ডব চালায়। ধাক্কা ধাক্কি করে ইমাম সাহেবের সাথে। ইমাম সাহেব কে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে মুয়াজ্জিন কে হিমু তার হাতে তুলে দিতে বলে।
হিমু মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে আসার কিছুক্ষন পর অজু খানায় গিয়ে মুয়াজ্জিন সাহেবকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে সে নিখোজ। তারও কিছুক্ষন পর মুয়াজ্জিন সাহেবের ফোনে ফোন দিলে হিমু রিসিভ করে। হিমুর থেকে সেই ফোনটি পাওয়া গেলেও মুয়াজ্জিন সাহেবের কথা সে অস্বীকার করে। সে জানায় মুয়াজ্জিন সাহেবের খবর সে জানে না।
আমরা ৩ দিন পর বিষয় টি জানার পর আজ আছরের নামাজের পর নারিশা বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সদস্যদের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই এবং তারা কি পদক্ষেপ নিয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাই।
মসজিদ কমিটি সদস্যরা ঘটনাটি সত্য বলে অবহিত করে ও এই নিন্দনীয় কাজের জন্য নিন্দা প্রকাশ করেন।
তারা জানায় মুয়াজ্জিন সাহেব হিমুর কাছে নেই, হিমু মারধর করার পর মুয়াজ্জিনের থেকে তার ফোনটি নিয়ে নেয় যার জন্য ফোনটি হিমুর কাছে আছে।
এই ঘটনার কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটি জানায় তারা মুয়াজ্জিন সাহেবর সন্ধান করছে। মুয়াজ্জিন সাহেবকে খুজে পেলে হিমুর সঠিক বিচার করা হবে। তারা আরো জানায় হিমুকে যখন তখন উপস্থিত করে বিচার করা যাবে যদি মুয়াজ্জিন সাহেব কে পাওয়া যায়। এতে বুঝা যায় হিমু মসজিদ কমিটির বাধ্যগত এবং মসজিদ কমিটি হিমুর অভিভাবকের ভুমিকা পালন করছে।
আইনি কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মসজিদ কমিটি জানায় তারা কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি কোন সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করেনি থানায়। তাদের ভাষ্যমতে, মসজিদের সভাপতি না আসা পর্যন্ত তারা কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে না, আগামি কাল ২৬ জুলাই মসজিদ কমিটির সভাপতি ঢাকা থেকে দোহার আসলে তার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে।
উপস্থিত মসজিদ কমিটির সদস্যদের প্রশ্ন করা হয় ইমাম সাহেবকে ধাক্কাধাক্কি ও হুমকি দিয়েছে হিমু। তার কোন বিচার করা হয়েছে কিনা?
(কেননা ইমাম সাহেব নিখোজ না, এখনো মসজিদে উপস্থিত আছে। তারা কেনো এখনো তাহলে ইমাম সাহেবের কাছে ক্ষমাটা পর্যন্ত চাওয়ানো হয়নি)
উপরোক্ত প্রশ্নের কোন উত্তর তারা দিতে পারেনি।
উপরোক্ত বিষয় থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে মসজিদ কমিটি বিষয় টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না এবং বিষয় টি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করছেন। আজ ৩ দিন অতিবাহিত হলো তারা কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।
এ দিকে এলাকাবাসির মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসি এই নিকৃষ্ট কাজের সঠিক বিচার চায়। আজ বিকেলেও এলাকার তরুণদের সাথে মসজিদ কমিটির বাকবিতন্ডা হয়। এলাকা বাসির মসজিদ কমিটির প্রতি বিরক্ত এই বিষয়ে ।
আজ বিকেলে নিখোজ হাফেজ মো: নাইম হোসাইনের সেজু মামা এসে উপস্থিত হোন মসজিদে। কান্নায় ভেঙ্গে পরে সে মো: নাইম হোসাইনের সন্ধান চায় সবার কাছে।
হাফেজ মো: নাইম হোসাইনের সন্ধান কেউ পেলে অতি দ্রুত জানানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। তার চিন্তায় তার মায়ের অবস্থা বেশি ভালো না।
সবাই পোস্টটি শেয়ার করে হাফেজ নাইমকে খুজে পেতে সহযোগিতা করুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1330