Hikmah In Islam

Hikmah In Islam

Share

25/12/2023

ইবনে সিনাতে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করছি, তখনই শুনলাম চিৎকারটা। তাকিয়ে দেখলাম, একজন ক্লিনার একজন ভদ্রলোককে ধমকিয়ে বলছে,

"টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় জুতাটা একটু ঝাড়া দিয়ে আসবেন না! এই মাত্র পুরো ফ্লোর পরিস্কার করলাম। আপনার জুতার কাঁদায় আবার ময়লা হয়ে গেলো।"

আজকাল বড় ছোট, ধনি গরিবের লেহাজ কয়জন করে। তার উপর একজন ক্লিনার ধমকাচ্ছে একজন সুটেড বুটেড ভদ্রলোককে। মনে মনে ভাবলাম, নিশ্চয়ই এখন একটা কাহিনী হবে।

কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ভদ্রলোক একটুও রাগ হলেন না। উল্টো ক্লিনারের ঘাড়ে হাত দিয়ে বললেন, সরি ভাই। ভুল হয়ে গিয়েছে। খেয়াল করতে পারি নাই।

ক্লিনার নিজেও প্রস্তুত ছিল না এরকম ব্যবহারের। থতমত খেয়ে বললো, না স্যার সমস্যা নাই। এটা তো আমার ডিউটি।

ডিউটিই যদি হয়, আগে তাহলে কেন চেঁচাল? আর স্যার সম্বোধন! একটু আগেও তো ছিল না।
খারাপ ব্যবহার দিয়ে যা কখনই আদায় করা যেত না, ভদ্রলোক সেই সম্মানটুকু সামান্য একটু ভাল ব্যাবহার দিয়েই আদায় করে নিলেন। সুরা হা-মিম সিজদাতে একটি আয়াত আছে, যার সারমর্ম মোটামুটি এরকম,
উত্তম কিছু দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করুন। দেখবেন, আপনার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও হয়ে যাবে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু। - আয়াত নং ৩৪

আয়াতটা এর আগে অনেকবারই তিলাওয়াত হয়েছে। কিন্তু কখনো বুঝি নি, এর উপর যখন আমল হবে দৃশ্যটা কত সুন্দর হবে!

ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

লেখা: রিযওয়ানুল কবীর সানিন

30/01/2023

"নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।"

সুরা শূরা আয়াত ৪০ এ আল্লাহ জোর দিয়ে বলছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না মানে যারা জুলুম করে।জুলুম করা বলতে আপনি কি বোঝেন?

পণ্য আগের দামে কিনে স্টক করে দাম বাড়ার অজুহাতে পুরনো দামে কেনা পণ্য নতুন দামে বিক্রয় জুলুম।ডক্টর অহেতুক টেস্ট ও মেডিসিন প্রেসক্রাইব করল কেননা আপনি বুঝেন না তাই,এটা জুলুম।বাড়িওয়ালাকে বললেন বাসার সম্যসা কিন্তু উনি দির্ঘদিন সমাধান না করে ভাড়া উওলোন,বিদ্যুৎতের বিল বা অন্য বিল ভাড়াটিয়ার উপর থেকে আদায় করা জুলুম।আপনি রিকশাওয়ালাকে এক জায়গার কথা বলে নামলেন আরও সামনে কিংবা ঝড় বৃষ্টিতে রিকশা ওয়ালা ভাড়া বেশি চাওয়া,সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে কম দামে জিনিষ নিয়ে নেয়া যেহেতু আপনি পাওয়ারফুল তাই,সমাজে যিনি নরম বা না করতে পারেন না তার উপর সব কিছু চাপিয়ে দেয়া কিংবা সত্য না জানিয়ে মিথ্যা বলে কারো কাছ থেকে কোন ফায়দা নেয়া-এ সকল কাজই জুলুম।

আল্লাহ কোরআনে অসংখ্য জায়গায় বলেছেন "তিনি জুলুমকারীদের পছন্দ করেন না তাদের শাস্তির কথা বলেছেন।" (সুরা আশ্ শূরা আয়াত ৪২)

"শুধু তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে যারা মানুষের প্রতি জুলুম করে"

যেই সমাজে জুলুমকারী বেশি,সেই সমাজকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন না কিন্তু আমাদের সমাজে ব্যাবসায়ী,ডাক্তার,বাড়ীওয়ালা সবাই সুযোগ পেলে জুলুম করে যদিও সবাই আল্লাহ,রাসুলকে ও কুরআনকে বিশ্বাস করে।এই কথাগুলোই আল্লাহ বলছেন সুরা আল ইমরানের ৮৬ নাম্বার আয়াতে।যতদিন আমরা সকল হাদিস বাদ দিতে না পারবো ততদিন কুরআনের কথা আমাদের কাছে আসবে না।

আল্লাহ কীভাবে সৎপথে পরিচালিত করবেন সেই সম্প্রদায়কে,যারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দান করার পর এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসবার পর আবার কুফরি করে।আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না’।(সূরা আলে ইমরান:৮৬)

আল্লাহ জুলুমকারীদের যন্ত্রণাদায়ক আযাবের কথা বলছেন কিন্তু আমাদের হুশ নাই কেননা এই কথা আমাদের পছন্দের কোন ধর্মীয় বক্তাতো বলেন নি।
বরং তারা জুলুমকারীদের প্রতি আল্লাহর দেয়া বিধান লুকায়।তাই আল্লাহ সুরা মায়েদায় বলছেন,তারাই কাফির ও জালিম যারা আল্লাহর বিধান অনুসারে ফায়সালা করে না।

আপনি এই শাস্তির কথা শুনে ও জুলুম চালিয়ে গেলেন।জ্বি,আপনাকেই আল্লাহ বলছে।তার চেয়ে জালিম আর কে,যাকে আল্লাহর বাণী দ্বারা উপদেশ দেয়া হয় তা থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়?

আমাদের কোরআনের কথা জানার আগ্রহ নেই বরং আমরা মারামারি করবো নামাজে হাত কই বাধবো?
এই জায়গায় মাখরাজ,টান ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে।আমরা যদি একবার জেনে যাই নবীর কোন সুন্নত নেই,সুন্নত হলো আল্লাহর যা সকল নবী অনুসরণ করেছেন,নবীর সুন্নতের নামে সকল ইবাদত মিথ্যা,তাহলে সকলে আমরা কোরআনের দিকে ফিরবো।কিন্তু তা কি শয়তান হতে দিবে? বা যারা নবীর সুন্নত শিখিয়ে ব্যবসা করে খায় তারাই তো আপনাকে কুরআনের কথা জানতে দিবে না সবার আগে।যারা সত্য লুকায় বা মানুষকে সত্য জানতে দেয় না তারাও জুলুমকারী।

এই জুলুমকারীরাই সমাজে ভালো কাজের উপদেশ দেয় কিন্তু নিজে তার অধিনস্ত সকলকে জুলুম করে।এটাই আল্লাহর কাছে ক্রোধের বিষয় যে,যা মানুষ বলে তা করে না।সুরা সাফ আয়াত ৩ আল্লাহ বলছেন,

"আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার যে, তোমরা বলবে এমন কথা যা তোমরা কর না।"

আল্লাহর কাছে কি নিন্দনিয় তা আমরা কেয়ার করি না কেননা কোরআনে লেখা আল্লাহর এই স্পষ্ট আয়াতের চেয়ে আমাদের যা কোরআনে নেই (দাজ্জাল,শেষ জামানা
,কেয়ামতের আলামত,কবরের আজাব)তার উপর বিশ্বাস অনেক বেশি।তাই আল্লাহ বলেন (সুরা কাসাস আয়াত ৫৬)

"তুমি চাইলেও কাউকে সৎপথে আনতে পারবে না।তবে যে ইচ্ছে করে আল্লাহ তাকে সৎপথে আনেন।আর তিনি ভালো করেই জানেন,কারা সৎপথ অনুসরণ করতে চায়।"

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Dhaka
1000