Offer Point BD
এই পোষ্ট সবার হোমপেইজে যাবেনা!
আইলসা, রাতে দেরিতে ঘুমায়, ক্রাশ পাত্তা দেয়না, প্রেমে ব্যর্থ, পড়ালেখা ঠিকঠাক মতো হয়না,সারাদিন রিলস দেখে, কোনো ফ্রেন্ড নাই, মাথার চুল সব পড়ে যায়, এমন সব মানুষদের হোমপেইজে যাবে! 🙂
06/11/2025
কট_ম্যারেজঃ "ফুপু আমি তোমার মাইয়ারে বিয়া করমু।"
সাহিনা চমকে ভাতিজার দিকে তাকালেন। রকি একটা ঘি কালারের শর্ট প্যান্ট আর হাফ হাতার গেঞ্জি পরে দাঁড়িয়ে আছে। চোয়ালে চাপা উত্তেজনা। সাহিনা আরা নিরাসক্ত আচরণে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। উনুনে আর কয়েকটা লাকড়ি দিয়ে কড়াই নাড়তে নাড়তে ব্যস্ত গলায় বললেন,
"মেট্রিক পাস কর।"
'রকি এগিয়ে এসে ফুপুর পাশে বসল। দুর্ধর্ষ গোয়েন্দাসুলভ দৃষ্টি তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
"মেট্রিক পাস করলে তোমার মাইয়া দিবা তো?"
'ধোঁয়ার কারণে তাকাতে পারছেন না সাহিনা। লাকড়িগুলো গতকালের বৃষ্টিতে ভিজেছিল, যার কারণে ঠিক মতো জ্বলছে না। চুলা থেকে কড়াই নামাতে, নামাতে বিরক্তির গলায় বললেন,
"হ, অনে যা এনতে।"
'রকি চপল মুখে বলল,"তোমার জামাইয়ের কসম খাও।"
'সাহিনা মুখ ভর্তি পানের পিচকি ফেলল। বিরক্তে চ' উচ্চারণ করে বললেন,
"খাইছি যা।"
'রকি আর একমুহূর্তও দাঁড়াল না। বাড়ি যাওয়ার আগে একবার শোবার ঘরের দিকে উঁকি দিল। নয়না পিড়ার সামনে গাদা আর বন ফুলের গাছ লাগাচ্ছে। গায়ে মালাওয়ালা গোল ফ্রক, চুলগুলো এখনও কাঁধ ছাড়েনি। বয়স আর কত, তেরো হবে।
___
"ফুপু আমি মেট্রিক পাস করছি। এল্লা তোমার মাইয়ারে দাও।"
'সাহিনার স্বামী মাত্র মাঠ থেকে ফিরে খেতে বসেছে। সবে প্রথম লোকমা টা মুখে তুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়েরবেগে ছুটে এসে ফুটে মাইর খাওয়া রকির কথায় কেশে উঠলেন তিনি। শখ করে কিনে আনা বোয়াল মাছের ঝোল আর তার পেটে গেল না। এটুকু ছেলের এরূপ অসংলগ্ন কথায় বিস্ময়ে হতভম্ব তিনি। স্বামীর দিকে তাড়াতাড়ি করে পানি এগিয়ে দিলেন সাহিনা। এক হাতের তালু দিয়ে স্বামীর পিঠে অবিশ্রাম ঘষার পাশাপাশি অপর হাতে তালপাতার হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে ভাতিজার ওপর তেজালো ক্ষিপ্তস্বরে গজগজ করে বলে উঠলেন সাহিনা,
"জাউড়ার ঘরের জাউড়া—মেট্রিক পাস কইরা তুই কী খাওয়াবি আমার মাইয়ারে? ইন্টার পাস কইরা আয়,যা।"
'ফুপুর এই করুণ হালতে রকি কিছুটা ব্যথিত হলেও কথা শোনাতে পিছুপা হলো না। তার খড়ুগনাশা চেহারাখানা তীব্র ক্রোধে আগ্নেয় রূপ ধারন করেছে। রকি হাউমাউ করে বাড়ি মাথা তুললো।
"তুমি আসলেই মিসখোর ফুপু। তোমার কথার কোনো দাম নাই। কসম কাইটাও কথা রাহো না। এইডার লাইগা তোমার জামাই মইরা গেছে।"
'সাহিনার আত্মা মুহুর্তে কেঁপে উঠল নিঃশব্দে। তিনি থমকে গিয়ে চমকে সামনে তাকালেন। না সে-ই মানুষটা নেই—একদিন যার হাত ধরে বাপের ভিটা ছেড়েছিলেন। কালচে কালি পড়া চোখের কোলে জমলো আকাশের কালো মেঘ। রাগারুণ মুখে রকির দিকে তাকিয়ে গজগজিয়ে উঠলেন,
"জাউড়া গেলি এনতে?"
'রকি নাছোড়বান্দা, "সত্যি কইরা কও ফুপু, ইন্টার পাস করলে মাইয়া দিবা তো?"
"হ যা তুই।"
'রকি এক দৌড়ে গিয়ে থামল নয়নার স্কুলের সামনে। তখন টিফিন টাইম। নয়না ক্লাসে নেই। রকি নয়নাকে খুঁজে পেল পাশের ঝালমুড়ির দোকানে। রকিকে দেখামাত্র নয়না নীরবমূর্তির মতো স্তম্ভিত হয়ে গেল। স্বচ্ছমেদুর পেলব মুখটাতে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ল বুক পাঁজরের ভাঁজে, ভাঁজে লুকানো উষ্ণতা। রকি বাজপাখির মতো শাণালো দৃষ্টিতে নয়নার পাশের মেয়ে দু'টোকে দেখল। হঠাৎ, ঠৌঁটে টকটকে লিপস্টিক দেওয়া মেয়েটার দিকে আঙুল তুলে বলল,
"কাল থেইকা আর এইডার লগে চলবি না নয়ন।"
'রকির মতো চটফটে একজন মানুষের মাঝে এমন গম্ভীরতা দেখে নয়না কিছুটা চমকপ্রদ হয়। বিস্ময়ের ঢেউ খেলা করছে তার চোখে। কম্পিত কণ্ঠে বলল,
"ক্যান রকি ভাই?"
"আমি কইছি তাই। এই ছেরি, কাল্লা থেইকা নয়নার লগে তুমি আইবা না, বুঝছো?"
'পাশের মেয়েটা গায়ে লজ্জা না মেখে মুখ গোমড়া করে বলল,"রকি ভাই, আমার ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করছেন না ক্যান?"
"তোমার থোবড়া আমার ভাল্লাগে নাই এর লাইগা। হুনছো, খুশি হইছো? এবার যাও নয়নার পাশ থেইকা।"
'মেয়েটা গাল ফুলিয়ে কয়েকটা বাংলা গালি দিয়ে চলে গেল গজগজ করে। রকি নয়না দিকে তাকিয়ে বলল,
"টিফিন করছত?"
'আনত মুখখানা ঝাঁকিয়ে নয়না,"হুমম।" বলল।
'রকি পকেট থেকে একটা বিশ টাকার নোট বের করে নয়নার হাতে দিয়ে বলল,"এই ধর, রাখ। আজকা থেইকা বাড়ি গিয়া নামাজ পড়বি। নামাজ পইড়া, পইড়া আমার লাইগা দোয়া করবি বেশি বেশি যাতে পাস করি। যত তাড়াতাড়ি পাস করতে পারমু, তত দ্রুত তরে বিয়া করতে পারমু। বুঝছত গাঁদি?"
'নয়না কি বুঝলো, তা তার অভিব্যক্তি দেখে বোঝা গেল না। সে শুধু নীরবে মাথা নাড়াল।
____
(দুই বছর পর)
"কিরে জাউড়া এখন মেয়ে চাস ক্যান? ছিঃ, ছিঃ ইন্টার ফেইলের কাছে আমি আমার মাইয়া জীবনেও দিতাম না। গোলামের পুত, আমার মাইয়া চাইয়া দেখিস খালি তুই।"
'রকির ফুপুর এখন পার্মানেন্ট ট্রান্সফার হয়েছে তাদের বাড়িতে। সাহিনার স্বামীর অকাল মৃত্যু সাহিনাকে একেবারে ভেঙে দিয়েছে। আর সেটা রকির আব্বা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। বোনের এমন অবস্থায় তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি গিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। তবে সেই যে ফুপুর আগমন তখন থেকেই বাড়িতে অশান্তির সূচনা। রকি যেন সারাক্ষণ কটুকথার নিশানায়।
'গতকালই রকির রেজাল্ট বেরিয়েছে। সে প্রথমবারের মতো ফেল করেছে। অথচ আগের সব পরীক্ষাতেই সে পাশ করে এসেছে নির্বিঘ্নে।
'রকি মুখ ফুলিয়ে বলল,
"এতোবছর যে পাস কইরা আইছি, কই কিছু দিলা না তো। একবার একটু ফেইল করছি আর এখন ছেরি দিতা না। তামসা কর ফুপু? লাগতো না তোমরার দেওয়া। খাড়াও আমিই ব্যবস্তা করতাছি।"
'সাহিনা চমকে উঠল। দ্রুত পানের পিচকি ফেলে বললেন,
"কিতা করবি তুই?"
'রকি রহস্যময় হাসি দিল,"বিয়া।"
"মইরা গেলেও আমার মাইয়া দিমু না ইন্টার ফেইলের কাছে।"
"তুমি মাইয়া দিবা, তোমার ঘাড় দিবো। খাড়াও ব্যবস্থা করতাছি।"
'বলে চলে যেতে উদ্যত হয় রকি। যেতে যেতে বলল,
"রকিকে হারালে, কাঁদতে হবে আড়ালে।"
'সাহিনাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রকি খুজতে গেল তার মা-কে। রকির মা গোয়ালঘর থেকে গোবর নিয়ে গুটো দিচ্ছিলেন। রকি মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
"আম্মা, দাদার মৃত্যুবার্ষিকী কবে?"
'ছেলের ফেল করাকে কেন্দ্র করে আগেই স্বামীর কাছ থেকে দুটো চড় খেয়েছেন মহিলা। রাগে গা জ্বলছে এখনও। ছেলের মুখ দেখে খেঁকিয়ে উঠলেন,
"দুশমনের জাত, চোখের সামনে থেইকা যা!"
'রকি ভড়কে গেল। তবে সে এখানে সময় নষ্ট করল না। সোজা খুঁজে বের করল নয়নাকে। নয়না তখন পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিল। রকিকে দেখে তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে দাঁড়াল। রকি কোনও ভূমিকা না করেই সরাসরি বলল,
"নয়না, তোর নানা মানে, আমার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী কবে?"
'নয়না একটু থেমে বলল,"সামনের সপ্তাহে, রকি ভাই।"
"আজ থেইক্কাই চিন্তা শুরু কর—দাদার শোকে কানবি না বিয়ের শোকে। গেলাম আমি।"
'হনহনিয়ে হাঁটা দিল রকি। ভরদুপুরে নয়না দাঁড়িয়ে রইল পুকুরপাড়ে তাজ্জব বনে। আদৌ বুঝে উঠতে পারল না, পাগলটা কী বলে গেল! দক্ষিণের নরম বাতাসের সাথে সামনে থেকে ভেসে আসছে রকির কণ্ঠস্বর। ছেলেটা নাচতে, নাচতে ছুটে যাচ্ছে আর অদ্ভুত গান গাইছে,
"আই'ম আ ডিস্কু ড্যান্সার,
বিড়ি খাইলে হয় ক্যান্সার।"
-----
'রকিদের বাড়িতে আজ ছোট পরিসরে তার দাদার মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছে। কিছু কাছের আত্মীয়স্বজন আর পাড়াপ্রতিবেশির দুপুরে খাওয়ানো হবে মাদ্রাসার বাচ্চাদের সাথে। সারা বাড়ি গিজগিজ করছে মানুষে। রকির বাপ-চাচারা রান্নার দিক দেখছে। মসজিদে খুতবা পড়াচ্ছে। রান্না প্রায় শেষের দিকে। জুম্মার সালাত শেষ হলেই খাবার পরিবেশন করা হবে। রকির বড় ফুপু, যিনি অত্যন্ত পরহেজগার। নয়নাকে খোলা চুলে হাঁটতে দেখে ধমকে উঠলেন,
"এই ছেরি৷ এম্নে খোলা চুলে হাটতাছত ক্যান? আর এইডা কী পিনছত? বিয়ার লায়েক মাইয়া, কত মানুষ আইবো আজজা। যা ভালা কাপড় পিনগা৷"
'নয়না কেঁপে উঠল খালার হুংকারে। মায়ের দিকে তাকালে সাহিনা ইশারায় বলল ভেতরে চলে যেতে। নয়না আর কী করবে, মা-খালার কথামতো ভেতরে চলে গেল জামা ঠিক করতে। নয়না দরজা লাগাতেই যাচ্ছিল, তখন হুড়মুড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করল রকি। ফুলকে চমকে উঠার আগেই রকি বলে উঠল,
"হেবি জোড়ে আওয়াজ করবি নয়ন। আজকে দেখমু তোর গলায় জোর কত-খানি। তোর গলার সাউন্ডের উরফে আজজা আমগোর বিয়া। শুরু কর নয়ন....
'রকির কথাগুলো নয়নার মস্তিষ্ক ধরার আগেই রকি প্যান্টের পকেটের ভেতর থেকে বের করল একটা কাগজ। ভাঁজকরা কাগজ খুলতেই দৃশ্যমান হয় কতগুলো তেলাপোকা। নয়নার দু-চোখ বিস্ফোরিত হয়ে আশ্রয়স্থল খোঁজার আগেই রকি নয়নার গায়ে তেলাপোকা ছুঁড়ে মারল। নয়নার গগনবিহারী চিৎকারে গাছের পাখিগুলো পর্যন্ত উড়ে গেল। রকি দৌড়ে গিয়ে খুলে দিল জানালাগুলো। যখনই কারো আসার শব্দ টের পেল, ছুটে গিয়ে জাপ্টে ধরল নয়নাকে।
___
'মানুষজন আসতে শুরু করেছে। ভিড় যত ঘন হচ্ছে, ততই বাড়ছে কানাঘুষো আর ফিসফাস। সকলে তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়ে আছে রকি আর নয়নার দিকে। মাঝ উঠানে দু’জনকে পিঠমোড়া ভান দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। নয়না মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে; রকির মুখে কোনো আবেগই পড়া যাচ্ছে না। সে যেন নিজের ভেতরে কোথাও ডুবে আছে। সাহিনা অসহায় চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আর তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছে। রকির বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। দুলাভাইয়ের জন্য ছেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও, পারছে না। ঘটনা এতদূর গড়াতো না, যদি না রকির কিছু বন্ধু চেঁচামেচি করে পুরো বিষয়টাকে রসিয়ে কষিয়ে উপস্থাপন করত। তাদের উত্তেজনাই সাধারণ একটি ব্যাপারকে ঘৃণিত রূপ দিয়েছে। এমনকি এলাকার চেয়ারম্যান আর মেম্বারকেও তারা টেনে এনেছে ঘটনাস্থলে। আসার পথে খুবই বিশ্রিভাবে উপস্থাপন করেছে ঘটনা।
'রকির বড় ফুপা এতোক্ষণে মুখ খুললেন। বেশ গম্ভীর গলায় নয়নার কাছে জানতে চাইলেন,
"নয়না, কী হয়েছে খুলে বল।"
'নয়না কাঁদতে, কাঁদতে বলল,"আমি তো জামা পাল্টাছিলাম, তখনই হঠাৎ কইরা রকি ভাই আস,,,
'নয়নার কথা মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয় রকি,"ইসসসস, এহন মিছা কথা কছ ক্যান বাড়ির মাইনসের সামনে? তুই তো আমারে কইছত যাইতে৷"
'সাহিনা মাথায় হাত চেপে ধরল। সকলের সামনে তীব্র আপত্তিতে গজগজ করে উঠলেন,"ওরে জাউড়ার ঘড়ে জাউড়া, গোলাম আমার আর কত মানসম্মান মারবি তুই? তোর মতো কলেজ ফেল রে আমার মাইয়া জীবনেও ডাকত না।"
'রকি মুখ গোমড়া করে বলল,"বিশ্বাস না হইলে তোমার ছেরি রে জিগাও।"
'চেয়ারম্যান কড়া গলায় বললেন,"এই ছোকড়া, চুপ কর তুই। এমন দরবার অনেক করছি জীবনে। ধরা খাইয়া এইডা কইতেও হুনছি—হাগা ধরতে দেইখা আইছিলাম বিশ্বাস করেন।"
'উনি থেমে রকির বড় ফুপার দিকে তাকিয়ে বললেন,"ওনে সমাধান হইছে, এই পোলা মাইয়ারে বিয়া দিয়া দেন মাস্টার। এমনিতেই এক বাড়িতে এমন যুবতী মাইয়া থাকলে পোলারা একটু ঢোলা হইয়া যাই-ই। আর মাইয়া নিজে হগলের সামনেই কইল—কাপড় পাল্টায় সময় পোলা গেছে। মানে ডা বুঝতে পারছেন নি? এই মাইয়ারে কী আর অন্য জাগাত বিয়া দিতে পারবেন?"
'রকির ফুপা কিছুক্ষণ ভেবে গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালেন। সাহিনা এবার কাঁদতে শুরু করলেন। চেয়ারম্যান রকির ফুপার সম্মতি নিয়ে তাকালেন রকির বাবার দিকে। মানুষটা লজ্জায় মাথায় তুলছেন না। চেয়ারম্যান বললেন,
"তোমার কী মতামত রহিম?"
'রকির বাবা নিচু গলায় বললেন, "আপনারা যা ভালো বুঝেন, তাছাড়া ঘরের মাইয়া ঘরে থাকবে, এরথেকে ভালা আর কী আছে৷"
'চেয়ারম্যান মাথা নাড়িয়ে এবার তাকালেন সাহিনার দিকে।
"সাহিনা, তুমি কী কও?"
'সাহিনা কিছু বলতে উদ্যত হয়েছিল, কিন্তু বড় বোনের চোখ রাঙানিতে শব্দগুলো গলায় আটকে গেল। অতঃপর দাওয়া-খাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি সম্পন্ন করা হলো রকি আর নয়নার বিয়ে। যে পোশাকে তারা তখন ছিল, সেই পোশাকেই গলায় বিয়ের মালা পড়িয়ে দেওয়া হলো। বিয়ের পর এখন ছেলেমেয়েকে পাশাপাশি বসিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে চারপাশে বড়রা একত্রিত। সাহিনার মুখে যেন লজ্জা, অপমান আর অসহায়তার ছাপ জমাট বেঁধে আছে। তার দিকে তাকানো দায়। তিনি বারবার রকির চোখ এড়িয়ে যেতে চাইছেন, অথচ রকি তার পিছু ছাড়ছে না। চব্বিশ কপাটি হাসি ফুটিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে শুধু সাহিনার দিকেই।
'নয়না খুবই স্বাভাবিক ভাবে খাচ্ছিল। তা দেখে রকির চাচি সাহিনার কানে কানে বললেন,
"মেয়ের চোখমুখ দেইখা তো মনে হইতাছে, মাইয়া বিয়াত রাজি। তারমানে চেয়ারম্যানের কথায় সত্য, হেগোর কিছু একটা আছিল আপা?"
'সাহিনা শক্ত গলায় বললেন,"আমার মাইয়া ইতা জীবনেও করত না।"
'রকির চাচি মুখ বাঁকাল। নয়নার দিকে তাকিয়ে সরাসরি জানতে চাইলেন,
"এই নয়না তুই কি এই বিয়াত রাজি?"
'নয়না চমকে উঠে রকির চাচির দিকে তাকাল৷ সকলে তার দৃষ্টি উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নয়না মিইয়ে গিয়ে মিনমিনিয়ে বলল,
"ইয়ে-মানে রাজি না, কিন্তু রকি ভাইয়ের চুলগুলা হেবি সুন্দর।"
'সাহিনার মাথায় হাত চেপে বসল। রকির মা আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে বললেন,
"ও আল্লাহ, তলে, তলে তোরা ইতা আকাম কবে করলি?"
'নয়না জবাব দিতে পারে না। রকির এসবে কোনো খেয়াল নেই। সে কবজি ডুবিয়ে খাচ্ছে মনের শান্তিতে। বুক থেকে পাথর নেমেছে, এখন পেট ভরে খাওয়ার পালা। রকির মা হাইহুঁতাস করে বললেন,
"বাপ, বিয়া করলি ঠিক আছে, বউরে খাওয়াবি কী? সংসার চালাবি কেম্নে? তুই কলেজ ফেল, নয়না মেট্রিক ফেল, তোগোরে চাকরি দিব কেডা?"
'উত্তরটা এলো নয়নার মুখ থেকেই। সদ্য বিয়ে করা স্বামী একইসঙ্গে তার শৈশবের প্রথম ভালো লাগার মানুষের দিকে একবার তাকিয়ে লাজুক হাসি ছুড়ে দিয়ে নয়না বলল,
"রকি ভাই গার্মেন্টেস কাজ করব, আর আমি মাইনসের বাড়িতে।"
'কথা শেষ হতেই রকির মা মাথায় হাত চেপে বসে পড়লেন। আর সাহিনা, মেয়ের এই নির্লজ্জ সরলতায় বজ্রাহত হয়ে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ল।
লেখাঃ methuburi মিথুবুড়ি
সমাপ্তি...............
(সম্পূর্ণ কাল্পনিক).............
(ফান পার্পাসে লেখা। কারোর যদি ফানকে ফান হিসেবে নিতে পারার মতো মনমানসিকতা না থাকে, তাহলে নিখুঁতভাবে এড়িয়ে যাবেন। আর কারোর ভাষাগত দিক দিয়ে বুঝতে সমস্যা হলে বলবেন—বাংলা, অঙ্ক, ইংলিশে ট্রান্সলেট করে দিব আমি। নরসিংদীর
আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। রেসপন্স করবেন ভালো লাগলে)
Collected post........
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Dhaka
8540