Islam - Peace

Islam - Peace

Share

30/03/2022

দ্বিন প্রচারকরা নিজেদের জন্য দোয়া করবে

ইরশাদ হয়েছে, ‘মুসা বলল, হে আমার প্রতিপালক, আমার বুক প্রশস্ত করে দাও। আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার মুখের জড়তা দূর করে দাও, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী দাও। ’

14/03/2022

পরকালে শাফাআত লাভের শর্ত

মহান আল্লাহর কাছে শাফাআত (সুপারিশ) করা এবং তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। নিম্নে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো—

যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকতে হবে : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি (আল্লাহ) সন্তুষ্ট। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৮)

এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যাদের ব্যাপারে সুপারিশ আল্লাহ পছন্দ করবেন, তাদের ব্যাপারেই সুপারিশ করা যাবে। এবং এর জন্য অবশ্যই তাকে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হতে হবে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ব্যাপারে কে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে? আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আবু হুরায়রা! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কেননা আমি দেখেছি, হাদিসের প্রতি তোমার বিশেষ লোভ আছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে ওই ব্যক্তি, যে একনিষ্ঠচিত্তে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই) বলে। (বুখারি, হাদিস : ৯৯)

আল্লাহর অনুমতিক্রমেই সুপারিশ করা যাবে

মহান আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করার সুযোগ পাবে না। এমনকি কিয়ামতের দিন মহানবী (সা.) আল্লাহর অনুমতিপ্রাপ্ত হওয়ার পরই সুপারিশ করবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর (আল্লাহর) কাছে সুপারিশ করতে পারে?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

সুপারিশকারী আল্লাহর প্রিয় হতে হবে

কোরআন-হাদিসের ভাষ্য দ্বারা বোঝা যায়, মহান আল্লাহ নবী-রাসুল ও তাঁর প্রিয় কিছু নেক বান্দাদের সুপারিশ করার সুযোগ দেবেন। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে না কিংবা আল্লাহর প্রিয় নয়, তারা সুপারিশের সুযোগ পাবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশমণ্ডলীতে কত ফেরেশতা আছে তাদের কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না, যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেন। ’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ২৬)

আবু দারদাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামতের দিন সাক্ষী ও সুপারিশকারী হতে পারবে না। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫০৬)

25/02/2022

দেহ-মনের পবিত্রতায় গোসলের গুরুত্ব ও বিধান
আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদের আল্লাহ ভালোবাসেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২২২)। ‘সেথায় এমন লোক আছে, যারা পবিত্রতা অর্জন ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ১০৮)। ইসলামি শরিয়াহমতে, তিনটি আমল সম্পাদনের জন্য পবিত্রতা ফরজ বা পূর্বশর্ত—নামাজ পড়া, কোরআন স্পর্শ করা ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।

শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের তিনটি পদ্ধতি হচ্ছে অজু, গোসল ও তায়াম্মুম। গোসল হলো সর্ববৃহৎ ও পরিপূর্ণ পবিত্রতা; যেটি এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জনের পাশাপাশি দেহ-মনে বিশেষ প্রশান্তি লাভ হয়, শরীরের শ্রান্তি–ক্লান্তি দূর হয়, মন প্রফুল্ল ও চিত্ত প্রসন্ন হয়, সঙ্গী ফেরেশতারা স্বস্তি লাভ করে, শয়তান ও শয়তানি ওয়াসওয়াসা বিদূরিত হয়, রুহ শান্তি পায় এবং নফস কলুষমুক্ত হয়। সর্বোপরি সব পাপ-পঙ্কিলতা মুক্ত হয়, ইবাদতে আগ্রহ ও মনোনিবেশ বৃদ্ধি হয়।

পরিভাষায় আপাদমস্তক পুরো শরীর ধৌত করাকে গোসল বলা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেন, ‘যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে।’ (সুরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত: ৬)। গোসলের ফরজ তিনটি—ভালোভাবে কুলি করা, নাকের ভেতর পানি দেওয়া, পুরো শরীর ধৌত করা (ফাতাওয়া শামি)। যে ব্যক্তি পবিত্রতার উদ্দেশ্যে গোসল করে, তার পাপগুলো ঝরে যায় এবং ঝরে পড়া প্রতিটি পানির ফোঁটা ও কণা একেকটি নেকি রূপে গণ্য হয় (আল হাদিস)।

গোসলের সুন্নাত পদ্ধতি
গোসলের আগে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সম্পন্ন করা। শরীরে বা কাপড়ে কোনো নাপাক লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করা। গোসলের আগে অজু করা। পবিত্রতা অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে গোসল করা। অতঃপর মাথায় পানি ঢালা, এরপর ডান কাঁধে পানি ঢালা, তারপর বাঁ কাঁধে। এভাবে পুরো শরীর ভালোভাবে তিনবার ধৌত করা। নারীদের কানে ও নাকে অলংকারাদি থাকলে তার ছিদ্রে পানি পৌঁছানো এবং আংটি, চুড়ি বা বালা ইত্যাদি নাড়াচাড়া করে ওই জায়গায় পানি পৌঁছে দেওয়া। শরীরের যেসব অঙ্গে সাধারণত স্বাভাবিকভাবে সহজে পানি পৌঁছায় না—যেমন কান, আঙুলের ফাঁকা, বগলের নিচ, চোখের কিনারা, চুলের গোড়া ইত্যাদি—ওই সব জায়গায় সযত্নেœ পানি পৌঁছানো। উল্লেখ্য, নখে নেইলপলিশ লাগানো থাকলে তা সম্পূর্ণ ওঠানো ব্যতীত অজু-গোসল শুদ্ধ হবে না, পানির স্পর্শ পরিপূর্ণভাবে থাকতে হবে। কাপড়ে নাপাক লেগে থাকলে তিনবার কচলে ধুতে হবে এবং প্রতিবার ধোয়ার পর এমনভাবে নিংড়াতে হবে, যাতে ঝুলিয়ে রেখে দিলে তা থেকে পানির ফোঁটা টপকে না পড়ে। স্মর্তব্য, গোসলের আগে অজু না করলেও পরে আর অজু করতে হবে না, তবে অজুভঙ্গের কারণ ঘটলে অবশ্যই অজু করতে হবে এবং গোসলের পর পবিত্রতা প্রয়োজন, এমন ইবাদত যথা ‘নামাজ পড়া, কাবাঘর তাওয়াফ করা ও কোরআন মাজিদ স্পর্শ করে পড়া’ যদি করে থাকেন, তবে চাইলে আবার অজু করতে পারবেন। অজু ও গোসলের পর ওই তিন আমলের কোনোটিই না করলে এবং অজুভঙ্গের কারণও সংঘটিত না হলে দ্বিতীয়বার অজু করা উচিত নয় এবং তা পানির অপচয় হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে হাতে–মুখে পানি দেওয়া বা হাত, পা ও মুখ ধৌত করা যাবে; অজু হিসেবে নয়।

গোসল ফরজ হওয়ার কারণ
রতিক্রিয়া, শুক্রপাত হওয়া (স্বপ্নে বা জাগরণে) এবং নারীদের ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব সমাপ্ত হওয়া। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৮)। গোসল ফরজ হলে বিনা কারণে বিলম্ব করা উচিত নয়। একবার গোসল করার পর উপরিউক্ত কারণগুলোর কোনো একটি সংঘটিত হওয়ার আগপর্যন্ত গোসল ফরজ হবে না। তবে প্রতি শুক্রবার গোসল করা সুন্নাত, উভয় ঈদের দিনে গোসল করা সুন্নাত এবং বিশেষ ইবাদতের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। আমরা সাধারণত প্রতিদিন গোসল করে থাকি, এতে পবিত্রতার নিয়ত থাকলে সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে।

16/02/2022

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের নামাজের সময় হলো, ঊষার উদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬১২)

আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফরজ। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)।

সুতরাং ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে ফজর নামাজ ছুটে গেলে তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব। কেননা রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে যায় বা সে সময় ঘুমিয়ে থাকায় তা ছুটে যায়, তাহলে তার কাফফারা হলো সে যখনই তা মনে করবে, তখনই (সঙ্গে সঙ্গে) নামাজ আদায় করে নেবে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৮৪)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন। ’ (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৫)

তাফসিরবিদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, উল্লিখিত আয়াতে সেসব নামাজির কথা বলা হয়েছে, ‘যারা নামাজের নির্দিষ্ট সময় থেকে দেরিতে আদায় করে। ’ (তাফসিরে কুরতুবি, খণ্ড : ২০, পৃষ্ঠা : ২১১)

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Cumilla?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Cumilla