Rafi Minhaz
21/11/2025
আজকে ঢাকা শহরে আমাদের যখন ভূমিকম্প অনুভূত হয়, এর মাত্রা হয়তো আল্লাহর অশেষ রহমতে ৬ এর দিকে যায়নাই, কিন্তু এর ইঙ্গিত খুব ভয়ংকর কিছুর দিকেই দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরে বলে আসছেন, বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্ব দিকের ফল্ট লাইনে যে চাপ জমছে, তা বড় ধরনের ভূমিকম্পের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প বাড়তে থাকে। আমাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এখন পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। যদিও আজকের ভূমিকম্প মোটেও কম মাত্রার না।
ঢাকার সমস্যা শুধু ভূমিকম্প না। সমস্যা হল ঢাকার গঠন। শহরের ভেতরে ভবনের দূরত্ব খুব কম, অনেক জায়গায় একটি ভবন ভেঙে পড়লে পাশের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পুরোনো এলাকা, সরু রাস্তা, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং মিলে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা তৈরি করেছে। যদি মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে উদ্ধার কাজ। রাস্তায় পৌঁছাতে সময় লাগবে, মানুষের আতঙ্ক বাড়বে, এবং বিদ্যুৎ, পানি, নেটওয়ার্ক সবই অচল হয়ে যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা। আনুমানিক ২ কোটিরও বেশি মানুষ এখন ঢাকায় বাস করে। এই একটি শহরেই দেশের বড় কর্পোরেট অফিস, হেডকোয়ার্টার, সরকারি অফিস, মিডিয়া, সবকিছু জড়ো হয়ে আছে। যে দেশের ৮টি বিভাগ আছে, সেখানে প্রায় সব চাকরি, সুযোগ এবং ব্যবসা ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে আছে। ফলাফল হচ্ছে একটি শহরের ওপর পুরো দেশের ভার পড়ে থাকা।
যদি কোনো বড় ভূমিকম্প ঢাকায় হয়, দেশের অর্থনীতি কয়েক সপ্তাহ নয়, সম্ভবত কয়েক মাস থেমে যেতে পারে। কারণ ব্যবসার কেন্দ্র ঢাকায়, ব্যাংক ঢাকায়, ম্যানেজমেন্ট ঢাকায়, টেক কোম্পানির অফিস ঢাকায়, ব্র্যান্ডের মূল টিম ঢাকায়। এত কেন্দ্রীকরণ যে কোনো দুর্যোগকে জাতীয় সংকটে পরিণত করে।
ডিসেন্ট্রালাইজেশন মানে উন্নয়ন ভাগ করা। মানে চাকরি শুধু ঢাকায় নয়, প্রতিটি বিভাগে তৈরি হওয়া। যদি বিভাগগুলোতে বড় অফিস থাকে, সম্ভাবনা থাকে, সাপোর্ট থাকে, মানুষ ঢাকায় ঠাসা হয়ে আসবে না। এতে দুইটি সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রথমত, ঢাকার ওপর চাপ কমবে, শহর পরিকল্পনার সুযোগ বাড়বে। দ্বিতীয়ত, কোনো দুর্যোগ হলে পুরো দেশ একসাথে থেমে যাবে না। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ প্রত্যেকটি আলাদা অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
ভূমিকম্পের মতো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা কখনো রোধ করা যায় না। কিন্তু ক্ষতি কমানো যায়। উদ্ধার সহজ করা যায়। ঝুঁকি কমানো যায়। আর সেই জায়গাতেই ডিসেন্ট্রালাইজেশন গুরুত্বপূর্ণ। একটি শহরে ২ কোটি মানুষ, হাজার হাজার ভবন, অসংখ্য অফিস গাদা গাদি করে রাখলে উন্নয়ন হয় না, বরং দুর্যোগের সময়ে বিপদ কয়েকগুণ বাড়ে।
ঢাকায় প্রতিটি ভবনের মধ্যে এত কম ফাঁকা জায়গা যে যদি একটি ভবন ধসে পড়ে, চারপাশের কয়েকটি ভবন পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়ে। মানুষ তাড়াহুড়ায় বের হতে পারে না। শিশু, বৃদ্ধ, নারী; কেউই নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এই বাস্তবতা আমরা বহু বছর ধরে দেখছি কিন্তু এখনো শহরকে হালকা করা হয়নি।
এখন আমাদের ভাবার সময় এসেছে। যদি আমরা সবকিছু ঢাকায় রাখি, তাহলে একদিন একটি বড় ধাক্কায় পুরো দেশ একসাথে বিপর্যস্ত হতে পারে। কিন্তু যদি আমরা উন্নয়ন ছড়িয়ে দেই, বিভাগগুলোকে শক্তিশালী করি, বড় বড় কোম্পানি ঢাকার বাইরে হেড অফিস দেয়, সরকারি সেবাগুলো বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা ঝুঁকি কমাতে পারব।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Contact the business
Website
Address
Chattogram